পটিয়ায় অভিভাবক সমাবেশ অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী ক্লাসে উঠতে পারবে না

সন্তানদের অপরাধপ্রবণতা, মোবাইল-আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ. টি. এম. তোহা। একই সঙ্গে এ বছর থেকে অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময়সভায় প্রধান শিক্ষক এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান শিক্ষক এ. টি. এম. তোহা বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও পড়াশোনায় মনোযোগী করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাড়িতে অভিভাবকদের যথাযথ তদারকি না থাকলে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। সন্তানকে শান্ত রাখতে কিংবা পড়াশোনার বাইরে ব্যস্ত রাখতে অনেক অভিভাবক অবাধে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছেন, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট বয়স ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া উচিত নয়। সন্তান রাতে কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের বিষয় দেখছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখতে হবে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় অবহেলা কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থীকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে না।
সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক পীযূষকান্তি পাল, সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোজিত দাশগুপ্ত, শিক্ষক নুরুল আবচার, মো. শরীফ ও মো. মিজানুল হক।
এ সময় উপস্থিত অভিভাবকেরা শিক্ষকদের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সভা শেষে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা মোবাইল-আসক্তির কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটলে অভিভাবকদেরও এর দায় নিতে হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।











