নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, ভুয়া জোত পারমিট ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন প্রায় তিন বছর আগে ইউএসএফ ডিভিশনের কুতুকছড়ি রেঞ্জ ও ইউএসএফ সদর রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে যোগদান করেন। একইভাবে ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পানছড়ি রেঞ্জ ও রামগড় চেক স্টেশন থেকে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫৪ হাজার ৫১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গোদা, চাম্পাফুল, গর্জন ও চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ ভুয়া জোত পারমিটের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন কুতুকছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বিপুল পরিমাণ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করেন। একই সঙ্গে একজনের নামে বরাদ্দকৃত জোত অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত দুই বছরে কয়েক লাখ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া ইউএসএফ সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার গাড়ি কাঠ পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই ডি-ফরম ব্যবহার করে একাধিকবার কাঠ পরিবহন করা হয়েছে।
এদিকে, আনোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাবে বেতনের বাইরে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বছরের নির্ধারিত দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আরও এক বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জ থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি গাড়ি বিভিন্ন সময়ে রামগড় চেক স্টেশনে আটক হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের আর্থিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আনোয়ার হোসেন সরাসরি জড়িত রয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, রেঞ্জের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আমি সরকারকে বিপুল রাজস্ব দিয়েছি। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কাঠ পাচারকারীরা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার চাকরির আর মাত্র দুই মাস বাকি। আমি একজন হার্টের রোগী। আপনাদের কাছে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
অন্যদিকে, ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
 




বন বিভাগের সুয়ালক ও বড়দোয়ারা স্টেশনে চাঁদাবাজি!

বন বিভাগের সুয়ালক ও বড়দোয়ারা স্টেশনে চাঁদাবাজি!
ছবি সংগৃহীত।



# বন রক্ষার বদলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
# চেকপোস্টে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে নির্ধারিত হারে টাকা আদায়
# সুয়ালক ও বড়দোয়ারা চেকপোস্ট ঘিরে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট
 


বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বন বিভাগের দুটি চেক স্টেশন যেন চাঁদাবাজির ল্যাম্পপোস্ট। বন রক্ষা নয়, বান্দরবান থেকে আসা বৈধ-অবৈধ কাঠবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় তাদের দৈনন্দিন কাজ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের বড়দোয়ারা চেকপোস্টগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট। নেতৃত্বে আছেন বিট কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল কাদের চৌধুরী। কাঠ-বাঁশ ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকরা এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত টুলের নামে চাঁদাবাজিতে চরম অতিষ্ঠ। নিয়মবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গাছ পাচারে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিট কর্মকর্তা একটি চাঁদাবাজির রেটচার্টও করে রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বিট কর্মকর্তা বৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে গাড়িপ্রতি সাত হাজার টাকা, জিপ গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা, ফার্নিচারবাহী ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা, জিপ বা ছাদের গাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এছাড়া অবৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে ২০ হাজার টাকা এবং জিপ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। আনুমানিক হিসেবে বিট কর্মকর্তা মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে থাকেন।
এদিকে বান্দরবান বন বিভাগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের মদদপুষ্ট ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ আবুল হোসেন গত ০৩ বছর যাবত বিধিবহির্ভূতভাবে বান্দরবান বন বিভাগে পোস্টিংয়ে আছেন। তিনি প্রায় ২ বছর সদর রেঞ্জে সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে থাকার পর সুয়ালক চেক স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন এবং চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে পোস্টিং না করার বাধ্যবাধকতা আছে। এ কারণে অনেকে তদবির করেও সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন ও চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে আসতে পারেন না। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১ বছর যাবত সুয়ালক চেক স্টেশনের এসও হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সুয়ালক চেক স্টেশনে ১ দিন অবস্থান না করেও পারি দিলেন ১ বছর। প্রতিদিন তার বনজদ্রব্যের গাড়ি চেকিং করার নিয়ম থাকলেও তিনি ফরেস্ট গার্ড দিয়ে চেকিং করান, চলাচল পাশে স্বাক্ষর করেন ফরেস্ট গার্ড। মাঝে মধ্যে তিনি স্টেশনে গিয়ে টাকার ভাগ নিয়ে আসেন। আবুল হোসেন বান্দরবানেও থাকেন না, নিজ শহর কুমিল্লা ও ঢাকাতেই অবস্থান করেন। ছুটি নেওয়ার ধারও ধারেন না। তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলে বেড়ান, তার আত্মীয় মন্ত্রী, তার ভাই সচিব, তার ভাই বন বিভাগের বড় অফিসার, তার আত্মীয় ম্যাজিস্ট্রেট। ডিএফও, সিএফ গোনার তার টাইম নাই।
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সুয়ালক চেক স্টেশনে অবৈধ বনজদ্রব্যের গাড়ি আটক করার সরকারি নিয়ম থাকলেও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো গাড়ি আটক করেননি। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মোটা টাকার বিনিময়ে, আমার কাজ গাড়ি পাস করা আর টাকা আদায় করা। তিনি রাতের আঁধারে কর্তন নিষিদ্ধ চম্পাফুল, গোদা, গুটগুটিয়া, গর্জন, শিউরীসহ মূল্যবান কাঠের গোল, রদ্দা ও চিড়াই কাঠের গাড়ির লাইন দেন। গাড়িপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি নিয়ে থাকেন। টিপির গাড়ি ফ্রি থাকলেও অবৈধভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ও কোনো কোনো গাড়িতে অবৈধ কাঠ নেওয়ার চুক্তিতে গাড়িপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেন। প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন। কথিত আছে, তিনি অবৈধ চাঁদার ভাগ ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নিয়মিত পৌঁছে দেন।
২ মাস পূর্বে বান্দরবান বন বিভাগ হতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি হলেও তিনি এখনও সুয়ালক চেকপোস্টে বহাল তবিয়তে আছেন। আবুল হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জারের শক্তির কাছে বন বিভাগ হেরে যাচ্ছে।
 




দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।”

একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোন বিষয় নিয়ে এমনকী স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষ্যেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘সৃষ্টির সেরা জীব যদি আমরা হয়ে থাকি, তাহলে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন বলেন, আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা। উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় কিন্তু এক। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক।’ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ও আসামির পালিয়ে যাওয়া রোধকল্পে শনিবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন।

পিবিআই আরও জানায়, এর আগে গত ২২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৪ আগস্ট মুক্তি পান। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।