নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিস মালিকবিহীন বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির বিশেষ টহলদল। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মণ্ডলপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ইয়াবা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ৩৪ বিজিবি।




রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা

রামগড়ে বিজিবির মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মাসিক সভা করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রামগড় জোন সদরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি।

সভায় রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রামগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, হেডম্যান, কারবারি, কাঠ ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়মতো অবহিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জোন কমান্ডার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের গুজব প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম ও রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে হাম এবং সীমান্তসংলগ্ন রামুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর সতর্কাবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে। ফলে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সীমান্ত জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ির ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-গাঁয়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দোছড়ি, ঘুমধুম ও সদরসহ আশপাশ এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি কিছু ডেঙ্গু রোগীও শনাক্ত হয়েছে, তবে সে সংখ্যা তুলনামূলক কম।

সূত্র জানায়, বাইশারী, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ির অধিকাংশ রোগী ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কক্সবাজার কেন্দ্রিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়ার একাংশের রোগীরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫০ জন হাম আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ১৯ অক্টোবর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৪ জনকে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল মনজুর জানান, এলাকায় হাম ও ডেঙ্গুর উপদ্রব থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও দুটি বিষয়ের ওপরই বিশেষ নজরদারি ও সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভৌগোলিক সীমানা সংলগ্ন রামু উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ জেড এম সলিম জানান, এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে রামু উপজেলায় প্রায় ১০০ জনের কাছাকাছি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত, জনমনে আতঙ্ক

বান্দরবানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত, জনমনে আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান সদর উপজেলার রংছড়ি স্টেশন ও লেবুঝিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাই বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কামাল হোসেন (৩০) নামে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। একের পর এক কুকুরের কামড়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহত কামাল হোসেন জানান, তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কুকুর এসে তাঁর পায়ে কামড় দেয়। এতে তাঁর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কামালের পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা বাড়িতে থাকা অবস্থায় খবর পান, কামালকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “জরুরি বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুকুরের কামড়ে আহত ১৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরও কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসতে পারেন বলে আমরা খবর পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ জলাতঙ্কের টিকা মজুত রয়েছে। পরবর্তী সময়ে টিকার সংকট দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুকুরে কামড়ালে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

এদিকে, কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় বান্দরবান সদরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।