নাইক্ষ্যংছড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ১১ বিজিবির অধিনায়ক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ১১ বিজিবির অধিনায়ক

নাইক্ষ্যংছড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ১১ বিজিবির অধিনায়ক
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ও বাইশারী ইউনিয়নসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিজিবি সদস্যরা। এর মধ্যে এক প্লাটুন সদস্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং অপর প্লাটুন নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী সার্বজনীন হরিমন্দির পূজামণ্ডপ এবং বাইশারী এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে বিজিবির অধিনায়ক দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি পূজো শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পাদন নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) নবাগত উপ-অধিনায়ক মেজর তাহসিন উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় বাহিনীটি সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও আনন্দমুখর করতে এ ধরনের নিরাপত্তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

লেখাটি কোনো নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের প্রকাশের জন্য পাঠাতে চাইলে বা শিরোনামে আরও কোনো বৈচিত্র্য আনতে চাইলে জানাতে পারেন!




নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি বস্তা থেকে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি বস্তা থেকে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুভর্তি পরিত্যক্ত দুটি বস্তা তল্লাশি করে মালিকবিহীন ৯৯ হাজার ৬৪০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার সিজার মূল্য ২ কোটি ৯৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, যা প্রায় ৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল আদর্শগ্রাম চেকপোস্টের কাছে স্টিলের ব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

849534544_1086885090803882_2085882364528913557_n
 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিজিবির বিশেষ টহল দল আদর্শগ্রাম চেকপোস্টের নিকটবর্তী স্টিলের ব্রিজের নিচে তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা লেবুভর্তি দুটি বস্তা থেকে ১০টি কাটে রাখা মোট ৯৯ হাজার ৬৪০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে এসব ইয়াবার কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগীদের জন্য চালু হলো ইকো-কার্ডিওগ্রাম সেবা

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হৃদরোগীদের জন্য চালু হলো ইকো-কার্ডিওগ্রাম সেবা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও সুলভ করতে এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছে। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত ইকো-কার্ডিওগ্রাফি (Echocardiogram) সেবা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এ সেবার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ড. গোলাম মোস্তফা নাদিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. সোলাইমান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সেবাটি চালু করতে সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায় থেকেই অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ, সাবেক ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. গোলাম মোস্তফা নাদিমের ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ প্রযুক্তিগত সুবিধাটি যুক্ত হলো।

এতদিন লামা, বমুবিলছড়ি ও পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার হৃদরোগীদের সামান্য ইকো-কার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা করানোর জন্যও বান্দরবান জেলা সদরে অথবা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো বড় শহরে যেতে হতো। এতে রোগীদের যেমন সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি পোহাতে হতো, তেমনি গুনতে হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় রোগীরা এখন নিজ এলাকাতেই অত্যন্ত কম খরচে দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. নাদিম জানান, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সসহ ভবিষ্যতে এলাকার প্রান্তিক জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।




ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ছোটফরিংগা সীমান্ত এলাকা থেকে এসব শাড়ি জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রামগড় ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল মীরসরাই উপজেলার ছোটফরিংগা বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০৩/২-আরবি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াটিলা মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় পাহাড়ি এলাকার উঁচু-নিচু স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক সিজার মূল্য ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা ও সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।