রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা

রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেবল চলতি মাসেই অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই তথ্য জানিয়েছে।

ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্র ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। হামলার বিবরণ তুলে ধরে রিয়াদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, তেল সুবিধা ও অবকাঠামোসহ বেসামরিক নাগরিক এবং সাধারণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হুথিদের অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এদিকে, সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, দুই পক্ষের মাঝে সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে গোষ্ঠীটি ওমানে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রায়েদ ক্রিমলি বলেন, এই সংঘাত তীব্র আকার ধারণের শুরুতে আমরা ওমানের মাসকাটে বৈঠক করার জন্য হুথিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু গোষ্ঠীটি বৈঠকের সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে হওয়া সেই যোগাযোগই ছিল আমাদের শেষ বার্তা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে হুথিদের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে, ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর মদিনায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি এক্সে বলেছেন, “মদিনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।”

তবে সৌদি জোটের এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে বলেছেন, বৃহস্পতিবার সৌদিতে কোনো হামলা চালানো হয়নি।

সূত্র: এএফপি।
 




ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর
ছবি সংগৃহীত।

ইরানে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলায় জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিশাল আকৃতির এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘মব’ নামে বেশি পরিচিত।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে সিএনএন নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইরানে ফের হামলার নির্দেশ দেন— তাহলে এই বোমা ব্যবহার করবে মার্কিন বাহিনী।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ফের ইরানে হামলা শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী।

‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ হলো বিশ্বের বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে এটি ‘বিশেষ সম্পদ’। এই বোমার সম্ভাব্য ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ইস্যুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।

একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন কোনো পরিকল্পনা তৈরি করে—তারা নীতিনির্ধারকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিকল্প প্রস্তুত রাখে—যার মধ্যে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুগুলোর জন্য বড় বোমার প্রয়োজন হয়, আর ‘মাদার অফ অল বম্বস’ হলো সবচেয়ে বড় বোমা।”

সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ অন্যান্য স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘মাদার অফ অল বম্বস’ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে খোদ মার্কিন বাহিনীতে। সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের একজন সিএনএন-কে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে এই বোমাটি কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিএস-নির্দেশিত এই বোমাটি নয়টি সিটি ব্লকের সমান এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, এটি সম্ভবত ইরানের পিকাক্স পর্বতের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম নয়। ধারণা করা হয়, এই স্থাপনাগুলো গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরে সুরক্ষিত। এছাড়া ইরানের অন্যান্য পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প হয়তো ‘মাদার অফ অল বম্বস’-কে একটি মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সূত্র : আল আরাবিয়া




পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ১৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহত শিক্ষার্থীদের সবার বয়স ১৩ বছরের নিচে। এ ঘটনায় আহত আরও এক ডজনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ছাদ ধসে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জরুরি সেবা বাহিনী।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে প্রায়ই ছাদ ও ভবনধসের ঘটনা ঘটে।

গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। তাদের বয়সও ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। 




মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ছবি সংগৃহীত।

মক্কায় মসজিদ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এজেল নিউজ এ খবর জানিয়েছে।  

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির এবং সিথি আক্তার।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পবিত্র নগরীর একটি মসজিদের ভেতর অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে তারা দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনাটি জানার পর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এই দুজনকে গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টিকে বিবেচনা করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাযির আওতায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এই রায়টি উচ্চতর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বহাল রাখা হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।

গত বুধবার (১৪ অক্টোব) মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিথি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিবৃতিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনকারী বা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সাথে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে যে কাউকেই কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।