নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা বিক্রির টাকাসহ আটক ৩
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা বিক্রির টাকাসহ আটক ৩

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা বিক্রির টাকাসহ আটক ৩
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ তিনজনকে আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ীপাড়া জামে মসজিদের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধানঝিরি এলাকার বাসিন্দা মো. গোলাম হোসেনের ছেলে মো. জালাল আহমেদ (৩৬), মো. সোলাইমানের ছেলে মো. নুরুল আলম (৩২) এবং মো. ছৈয়দ আকবরের ছেলে মো. ইয়াসিন উল্লাহ (২২)।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিব রহমান খান জানান, আটক ব্যক্তিরা কক্সবাজারের রামুর মরিচ্যাবাজার এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকা গ্রহণ করে সোনাইছড়ি হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে আসছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ীপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে তাদের আটক করে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ির থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নগদ অর্থ লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক এবং নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক কারবার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের লেনদেন বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।




রুমার দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’

রুমার দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’
ছবি সংগৃহীত।

১৪ পাড়ার মানুষের জন্য চাঁদের গাড়ি প্রদান, সহজ হবে রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহন।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। দুর্গম এলাকার ১৪টি পাড়ার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি রোগী স্থানান্তরের সুবিধার্থে ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁদের গাড়ি প্রদান করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।

888791487_3332888706919059_2299780218215266615_n
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া ও হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা যোগাযোগব্যবস্থার সংকটে ভুগছিলেন। এসব এলাকায় বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।

বিশেষ করে রুমা থেকে মুননুয়াম পাড়া রুটে নিয়মিত কোনো যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হতো। অসুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে চাঁদের গাড়িটি প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটি প্রাথমিকভাবে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি আশপাশের আরও ১০টি পাড়ার বাসিন্দারাও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহনসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে মোট ১৪টি পাড়ার মানুষ এ উদ্যোগের সুফল পাবেন।

গাড়িটি চালু হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, গাড়িটির সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এর ফলে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ পরিবহনসেবার সুফল পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গাড়িটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ের মানুষের যাতায়াত সংকট নিরসনের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




লামায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

লামায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বান্দরবানের লামায় নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে তথ্য অফিস, লামার আয়োজনে ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ক নারী সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সোমাইয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আশরাফ এবং আলীকদম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নূর খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারী ও শিশুর অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে বৈষম্য না করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মানব পাচার, মাদক, গুজব ও অপপ্রচার, ইভটিজিং, ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, অপরাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা স্বল্প সময়ে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিষদের গ্রাম পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” কোনো নাগরিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তির শিকার হলে ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রাম ও ডাবের খোসাসহ পানি জমতে পারে এমন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কারের পরামর্শ দেন। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের সরকারি কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন।

এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের সুযোগের কথা তুলে ধরেন। এ সহায়তা পেতে দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নির্যাতনের শিকার দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের নীরব না থেকে সরকারি লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার সুযোগের ব্যাপারে সকলকে জানানো হয়।

সমাবেশে স্থানীয় নারী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত সমাবেশে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত স্টিকার বিতরণ করা হয়।




পাহাড়ে ৭৮০ পরিবারের হাতে ২ লাখের বেশি ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ

পাহাড়ে ৭৮০ পরিবারের হাতে ২ লাখের বেশি ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়ে কৃষকদের হাতে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা। কারও হাতে নারিকেল, কারও হাতে আম কিংবা লিচুর চারা। বিনামূল্যে পাওয়া এসব চারা ঘিরে কৃষকদের চোখেমুখে স্বস্তি ও আশার ঝিলিক। পাহাড়ের মাটি ও জলবায়ুকে কাজে লাগিয়ে ফলদ ও বনজ বাগান গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার সাতটি উপজেলার ৭৮০টি পরিবারের মধ্যে দুই লাখের বেশি ফলদ ও বনজ চারা-কলম বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা চারার মধ্যে রয়েছে নারিকেল, সুপারি, আম (আম্রপালি), লিচু, মিষ্টি তেঁতুল, টক তেঁতুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ চারা। শুধু চারা নয়, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও উৎপাদন নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জৈব সার, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকও বিতরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএডিসি) উন্নত জাতের চারা ও কলম উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের ৮৩টি হর্টিকালচার সেন্টারকে উন্নত মান ও জাতের চারা-কলম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থবছরের শুরুতেই বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় চারা ও কলমের চাহিদা জানায়। সে অনুযায়ী বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারসহ দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার এবং বিএডিসি সরকারি মূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ চারা সরবরাহ করে। পরে জেলা পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়।

বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ জানান, এ বছর বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ চারার পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নত জাতের ৩ হাজার ৫০০টি নারিকেল চারাও বিতরণ করা হয়েছে।

বিনামূল্যে উন্নত জাতের চারা পেয়ে রুমা উপজেলার কৃষক লালথালানপিয়াং বম বলেন, “হর্টিকালচার সেন্টার থেকে পাওয়া উন্নত জাতের এসব চারা দ্রুত ফল দেবে বলে আশা করছি। বাড়ির চারপাশে চারা রোপণ করেছি। এসব গাছ থেকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ফল বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করা সম্ভব হবে।”

বান্দরবান সদর উপজেলার কৃষক দিল চন্দ্র তংচংগ্যা বলেন, “একসঙ্গে ফলদ ও বনজ গাছের চারা পাওয়া আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এসব চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

থানচি উপজেলার কৃষক মেনপয় ম্রো বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগে চারা পেয়ে আমরা যেমন বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছি, তেমনি পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি রক্ষারও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বলেন, “সারা দেশের মতো সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলেও গরমের তীব্রতা ও তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে বান্দরবান জেলায় ব্যাপকভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব চারার যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে পাহাড়ে সবুজ বনায়ন সম্প্রসারিত হবে, অন্যদিকে ফল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।”

পরিবেশবিদ ও কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ বনায়ন সম্প্রসারণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। তবে শুধু চারা বিতরণ নয়, রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, টিকে থাকার হার এবং ফলন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে এ কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।