দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 




বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ জোর দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি

বাস্তবসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ জোর দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি
ছবি সংগৃহীত।

দেশ ও বিদেশের কর্মসংস্থান উপযোগী প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে, দেশের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বেকারত্ব সৃষ্টি হয় ও কর্ম উপযোগী নয় এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমাদের ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।

সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য (চ্যান্সেলর) হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই
ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখানে আইএমএফের এমন কোনো শর্ত নেই।

তিনি বলেন, আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক। তবে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার ইস্যুতে তিনি বলেন, দু-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দু-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনও ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল স্থাপনায় হামলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্টের কথাও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না?

তিনি বলেন, সরকারকে একইসঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই গতিতে ভর্তুকি গ্যাস-বিদ্যুৎ দেন, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা দাঁড়াবে।

জ্বালানিতে ভর্তুকির চাপের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বেতন স্কেল সংশোধন হয়নি।




বাসভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, আজই হচ্ছে প্রজ্ঞাপন

বাসভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, আজই হচ্ছে প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশের ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দূরপাল্লা ও মহানগরসহ শহরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম এক টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি বৃদ্ধি পায় এক পয়সা। এবার ডিজেলের মূল্য লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে। বিআরটিএ কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তা কমিয়ে ১৭ পয়সা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

নতুন ভাড়ার হার কেবল ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের জন্য কার্যকর হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। একইভাবে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের ভাড়াও সরকারি নির্ধারিত নয়। ফলে এসব যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে নতুন এই ভাড়ার হার প্রযোজ্য হবে না বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে।

নতুন ভাড়া নির্ধারণের সময় ৫২ আসনের বড় বাস ও ৩০ আসনের মিনিবাসের হিসাব ধরা হয়েছে। তবে দূরপাল্লার অনেক পরিবহনে যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে ৫২ আসনের বাসের আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আসনসংখ্যা কমানো বাসের ক্ষেত্রে ভাড়ার পরিমাণও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বিআরটিএ সূত্র আরও জানায়, দূরপাল্লা ও শহরের বিভিন্ন রুটে দূরত্ব অনুযায়ী নতুন ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে তালিকা প্রস্তুত করে প্রকাশ করতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা। নতুন ১৭ পয়সা বাড়ার পর তা দাঁড়াবে ২ টাকা ৭০ পয়সায়। মিনিবাসের বর্তমান ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে হবে ২ টাকা ৫৯ পয়সা।

অন্যদিকে দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা। নতুন হার কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২ টাকা ৪০ পয়সা।