দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
ছবি সংগৃহীত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের ছুটি পাচ্ছে দেশ। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন ছুটি ঘোষণা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এরপর থাকছে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি।

পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানের কর্মদিবস ২২ অক্টোবরও (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।


গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২২ অক্টোবর অফিস খোলা ছিল। ওইদিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ফলে এই তিনদিনের পূজার ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচদিনের ছুটির উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ছুটি ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসসমূহ খোলা থাকবে।

এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি কাটানো যাবে।

ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যারা
১) জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।


২) হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৩) চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।


৪) জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিস এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

৫) ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

৬) বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান/কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।




আতঙ্ক-উচ্ছ্বাস দুই নিয়েই অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আতঙ্ক-উচ্ছ্বাস দুই নিয়েই অপেক্ষায় বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার এই বিশাল প্রকল্পটি দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট থেকে দেশের ১৭০ মিলিয়ন মানুষকে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশের প্রথম এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে একদিকে যেমন রয়েছে চরম উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে রয়েছে আতঙ্ক।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদুল হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রটির প্রথম রিয়্যাক্টর চলতি বছরের শেষের দিকে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি এক বছরের মধ্যে কার্যকর হবে।’ এটি পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে, যা বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের এই সময়ে অর্থনীতিকে বেশ বেগবান করবে বলেও জানান জাহিদুল হাসান।

প্রকল্পটি কেন্দ্র করে এক সময়ের নীরব রূপপুর পরিণত হয়েছে প্রাণবন্ত এলাকায়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটম’-এর সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের হাত ধরে এখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য রুশ সংস্কৃতি। স্থানীয় দোকানপাট ও রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে রুশ ভাষা। স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি অনেক রেস্তোরাঁয় মিলছে রাশিয়ান ঐতিহ্যবাহী ‘বর্শ’ সুপ।

রূপপুর প্রকল্পের ফলে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলেছে। গড়ে উঠেছে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য। উদাহরণস্বরূপ, ২৮ বছর বয়সী মো. ইমন খান ঢাকার তৈরি পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ এলাকা রূপপুরে ফিরে এসেছেন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের কাছে ফল ও শাকসবজি বিক্রি করছেন। ইমন খান বলেন, ‘আমি সামান্য রুশ ভাষা বলতে পারি, আর তারাও কিছুটা বাংলা বলতে পারে।’

রুশ ইন্সটলেশন টেকনিশিয়ান আলেকজান্দার ভ্লাদিমিরোভিচ স্কভোর্তসোভ জানান, তার সামনে তুরস্ক অথবা বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ ছিল। তিনি রূপপুরকে বেছে নেন এবং ২০২৪ সালে সপরিবারে এখানে চলে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম রূপপুরের নির্মাণকাজটি দেখেছিলাম, তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে এই প্রকল্পে অনেক কাজ বাকি আছে। সত্যি বলতে, রূপপুর আমার জীবন ও চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে।’

স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কাজের স্বপ্ন। ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাফিজ বলেন, ‘আমাদের এলাকা পুরো বিশ্বের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে এতে আমরা আনন্দিত। আমার বন্ধুরা এবং আমি আশা করি প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে এই কেন্দ্রেই কাজ করতে পারব।’

তবে সবাই এখনো এই প্রকল্প নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা দূরত্বের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী সাবেক কাগজ কল শ্রমিক মো. ইউনুস আলী জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা অনেক আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে তারা বিকট শব্দে একটি কম্প্রেসার পরীক্ষা করেছিল। ঘুমিয়ে থাকা শিশুরাও ভয়ে জেগে উঠেছিল। আমি এখন বৃদ্ধ, আমার নিজের জীবনের ভয় নেই। কিন্তু আমার সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে, আমি তাদের নিরাপত্তা চাই।’

এদিকে, রূপপুর কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং পূর্বের পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিক্ষাগুলো এই প্রকল্পে কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

আবার রয়েছে এ ঘটনার উল্টোচিত্রও। বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশ বাংলাদেশির জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো রূপপুর আসলে কবে নাগাদ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। ৫৫ বছর বয়সী কৃষক বেলী বেগম বলেন, ‘আমি চাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দ্রুত চালু হোক এবং আমরা যেন এর পূর্ণ সুবিধা পাই। আমার ঘরের কাছেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, তাই আশা করি আমরা ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাব।’

উল্লেখ্য, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম গ্রহণ করা হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে ফ্রান্স, সৌদি আরব, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। অবশেষে ২০১৫ সালে রাশিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৭ সালে এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

তবে কোভিড-১৯ মহামারী, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সরঞ্জাম পরিবহনে জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বেশ কয়েকবার পিছিয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রকল্পটিকে ঘিরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।




২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬-২৯ অক্টোবর টো‌কিও সফর করার কথা র‌য়ে‌ছে প্রধানমন্ত্রীর। টো‌কিও সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কর‌বেন তা‌রেক রহমান। এছাড়া, জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী সফ‌রে জ্বালা‌নি সহ‌যো‌গিতা, জনশ‌ক্তি রপ্তা‌নি, বি‌নি‌য়োগ, বা‌ণিজ্য এবং বি‌ভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষ‌য়ে প্রাধান্য পেতে পারে।

ঢাকার এক‌টি কূট‌নৈ‌তিক সূত্র জা‌নি‌য়ে‌ছে, প্রধানমন্ত্রী জাপান সফ‌রে ক‌য়েক‌টি সম‌ঝোতা স্মারক ও চু‌ক্তি নি‌য়ে দুই প‌ক্ষের ম‌ধ্যে আলোচনা চল‌ছে। এগু‌লোর ম‌ধ্যে জনশ‌ক্তি রপ্তা‌নি সংক্রান্ত এক‌টি সম‌ঝোতা প্রায় প্রস্তুত, উভয় প‌ক্ষের সম্ম‌তি‌তে প্রধানমন্ত্রীর টো‌কিও সফ‌রে এ‌টি সই হওয়ার সম্ভবনা র‌য়ে‌ছে।




স্কুল থেকেই শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

স্কুল থেকেই শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে স্কুল থেকেই শিশুদের অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।

এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনও না কোনও একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

‘দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি কিংবা অন্য কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, তা সম্পূর্ণ করে ভালোভাবে শেখতে হবে।’

যারা গান বা নাচ পছন্দ করে, তাদেরও সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইভাবে যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদেরও তা সুন্দরভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।’ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, ‘শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ভাষাজ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে।  এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকায় থাকা গাছের যত্ন নিতে হবে। পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে।’ প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।