দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা

দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড পাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল, তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বুঝে নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। আগামী ১৫ বছরের জন্য পরিচালিত এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে বিতর্কিত চুক্তি বাতিল করা না হলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ১৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং বন্দরকে এককালীন ৫ কোটি ডলার প্রদানসহ বছরে অন্তত ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে দেশীয় অপারেটরদের অধীনেই এই টার্মিনালে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা এই চুক্তির বিবরণ জনসমক্ষে না আসায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালটিতে একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। টানা আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, "এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে করা গোপন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আমরা সরকারকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিয়েছি; দাবি না মানলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরণ অনশনে যাব।"

চুক্তির বিষয়ে অন্ধকারে থাকার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক। তিনি বলেন, "বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তির লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত ছিল। তবে আমরা একেবারে অন্ধকারে রয়েছি। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবা দ্রুত হলে ভালো, কিন্তু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে কেন চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করা হলো না?"

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ও বিদেশি সংস্থাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে শ্রমিক দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন দফায় দফায় কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালনা করে আসছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে চুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।




প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সিএমপি কমিশনার

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সিএমপি কমিশনার
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সিএমপি কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় সভা হয়েছে।

সবাই মিলে দুর্গাপূজা ও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




চট্টগ্রাম কাস্টমসে ১১ লটের পণ্য খালাসের অনুমতি, সময়সীমা তিন কার্যদিবস

চট্টগ্রাম কাস্টমসে ১১ লটের পণ্য খালাসের অনুমতি, সময়সীমা তিন কার্যদিবস
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) অনুকূলে ১১টি লটের পণ্য খালাসের অনুমতি দিয়ে ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত আদেশে এই অর্ডার জারি করা হয়।

জারি করা এ আদেশে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর বিপরীতে নির্ধারিত অর্থ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করে সঠিক পাওয়া গেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে পণ্যগুলো হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, লটগুলোর বিপরীতে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ বাবদ দুই কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ২১১ টাকা ৭০ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছে। এ অর্থ ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর সেনানিবাস শাখার মাধ্যমে পে-অর্ডারে জমা দেওয়া হয়।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর বাবদ ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৬৩১ টাকা ৭৬ পয়সা এবং আগাম আয়কর বাবদ ২৮ লাখ ১২ হাজার ৪২১ টাকা ১৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উল্লিখিত তিন খাতে পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৪ টাকা ৬৩ পয়সা।

ডেলিভারি অর্ডারের ছক অনুযায়ী, ১১টি লটের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, মিথানল, ডুপ্লেক্স বোর্ড, জেডএফ মেরিন গিয়ারবক্স, স্টেনটার মেশিন ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, আর্ট পেপার, গ্র্যানাইট টাইলস, মারলেক্স হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), অপরিশোধিত গ্র্যানাইট ব্লক এবং খালি কনটেইনার।

এর মধ্যে প্লাস্টিক স্ক্র্যাপের ক্ষেত্রে আমদানি নীতির প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী শিল্পের কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহারকারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি-ধারীর অনুকূলে পণ্য খালাস করতে হবে।

অন্যদিকে, মিথানল খালাসের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র দাখিলের শর্ত রয়েছে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে আদেশে উল্লিখিত শর্তের পাশাপাশি নিলামসংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

কাস্টমস হাউসের আদেশে বলা হয়েছে, ডেলিভারি অর্ডার জারির পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, নিলাম কমিটির গত ৮ সেপ্টেম্বরের সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট লটগুলোর বিক্রয়াদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অর্থ পরিশোধ ও যাচাই শেষে পণ্য হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস বলেন, নিলামসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত অর্থ, ভ্যাট ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়েছে। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনাপত্তিপত্রসহ প্রযোজ্য সব শর্ত পরিপালন করতে হবে।




দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য

দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
ছবি সংগৃহীত।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল ইসলাম। এখনও তিনি ভেতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা এবং সব সমস্যার সমাধানে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।

শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি থাকলে তা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তবে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
আমি আশা করি, সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, দুইজন অ্যালামনাই সদস্যের প্রেশার হাই।

ডাক্তার এসে দেখেছেন। যেহেতু আমরা বদ্ধ জায়গায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছি তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শিক্ষকতার জীবনে এমন ঘটনার সঙ্গে আমি কোনো সময় জড়িত ছিলাম না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। আমরা চাই, আমাদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে ক্যাম্পাসে আসেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে ভবনের মূল ফটকে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।