দুই দফা মেয়াদ শেষ, তবু অসমাপ্ত সেতুর কাজ—কাঠগড়ায় ঠিকাদার

তেলপারই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দাঁড়িয়ে আছে দুটি পিলার। পাশে পড়ে থাকা রডে ধরেছে মরিচা। অথচ সেতুর বাকি কাজ শেষ করার কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো পার হয়েই চলাচল করতে হচ্ছে কৃষক, পথচারী ও বাসিন্দাদের। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা ও প্রকল্প তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের দমদমা এলাকার ওমদা মিয়া সওদাগর বাড়ির পশ্চিম পাশে তেলপারই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির চিত্র এটি। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তেলপারই খালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলনও করেছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও আবু আহমদ বলেন, “সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক দিন পর সেতুর কাজ শুরু হলেও দুটি পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখনো ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। আমরা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”
নির্মাণকাজে তদারকির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “পিআইও কার্যালয় স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঠিকাদারকে আরও জোরালোভাবে তাগাদা দিলে কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও পিআইও কার্যালয়—উভয়েরই গাফিলতি রয়েছে।”
লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, “দমদমা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। অনেক তদবিরের পর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর ধরে কাজটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদার আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুতই নির্মাণকাজ শেষ করবেন।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. এরশাদ বলেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সেতুটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবু নাছের বলেন, “সেতুটির কার্যাদেশ ও প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে কার্যাদেশের মেয়াদও বাড়তে পারে। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”









