টেকনাফে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা: আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘাতের শঙ্কা
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

টেকনাফে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা: আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘাতের শঙ্কা

টেকনাফে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা: আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘাতের শঙ্কা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের ‘বিকাশ মোড়’ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহিম ওরফে রইক্ষ্যা (৩৫), তিনি মোছনী নয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুর রহিম। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বুধবার ফজর নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লিরা রাস্তার ওপর তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহতের মাথায় ও কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং চোখের পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন বন্ধু তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত আব্দুর রহিম রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ‘আলম’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। গত রবিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর কামাল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন খুনের ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে এভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্তে কাজ চলছে।




আধিপত্যবাদীদের সময় শেষ, ইসলামের বিজয় শুরু হয়ে গেছে -রেজাউল করিম আবরার

আধিপত্যবাদীদের সময় শেষ, ইসলামের বিজয় শুরু হয়ে গেছে -রেজাউল করিম আবরার
ছবি সংগৃহীত।

মুখে মদিনার ইসলামের কথা বলবেন আর কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করবেন না, তা মেনে নেওয়া হবে না। সব মতবাদ দেখা হয়ে গেছে। আধিপত্যবাদীদের সময় শেষ। ইসলামের বিজয় শুরু হয়েছে।

ইসলামী সম্মেলন সংস্থা কক্সবাজারের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রথম দিনের আলোচনায় ঢাকার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা রেজাউল করিম আবরার এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সম্মেলনে তিনি বলেন, একটা শ্রেণি আলেম-ওলামা থেকে ইসলাম না শিখে সরাসরি কুরআন হাদিস থেকে শেখার কথা বলেন। এসব কথা মানে সাহাবী, খলিফা, ইমাম অমান্য করা। যারা বাংলা বই পড়ে আলেম সেজে ফতোয়া দেয় তারা বড় গুমরাহ।

মাওলানা রেজাউল করিম আবরার বলেন, নবীর পরে আর কোন নবী যেহেতু আগমন করবেন না, তাই আলেমদের নিকট থেকে হেদায়েতের বাণী, ইসলাম শিখতে হবে।

ইসলাম ছাড়া দুনিয়ার সমস্ত মতবাদ ভ্রান্ত। পবিত্র কুরআনের আদর্শ ছাড়া অন্য কোন পন্থা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। তাই জান্নাত পেতে হলে ইসলামের সুশীতল ছায়ার কোন বিকল্প নাই।

এডভোকেট হাফেজ মাওলানা রিদওয়ানুল কাবীর ও মুফতি দেলোয়ার হোছাইনের সঞ্চালনায় মহাসম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচনা করেন, ঢাকার প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা জোবাইর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রহমানী ও চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রিদওয়ানুল কাদির।

বক্তাগণ বলেন, শুধু ইবাদত করলে জান্নাত পাওয়া যাবে না। জান্নাত পেতে হলে আকিদা পরিশুদ্ধ করতে হবে। রাসুল (স.) জান্নাতি দলের দুইটি মার্কা দিয়েছেন। যাদের আকিদা-বিশ্বাস নবীর আদর্শ এবং মাধ্যম হবে সাহাবায়ে কেরাম, তারাই জান্নাতি।

আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহছেন শরীফের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাহফিলে দেশ বরেণ্য আলেমগণ আলোচনা করেন।

দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের শনিবার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেমেদ্বীন আল্লামা হাফেজ মুফতি আওরঙ্গজেব ফারুকী।

আলোচনা করবেন, লন্ডনের ইজেএম একাডেমির প্রিন্সিপাল ও এসেক্স জামে মসজিদের খতীব আল্লামা ড. মাহমুদুল হাসান আযহারী, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা ওবায়দুল্লাহ হামযাহ, ঢাকার প্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন আল্লামা খুরশিদ আলম কাসেমী, আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, টেকনাফের আল্লামা মুফতি কেফায়তুল্লাহ শফিক ও চট্টগ্রাম হাটহাজারীর আল্লামা আনোয়ার শাহ আযহারী।




কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৯ তম সিন্ডিকেট সভা

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৯ তম সিন্ডিকেট সভা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৯ তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে ভিসির কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠানে আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কনভোকেশনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ মহোদয়ের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, সিবিআইইউ প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নুরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজিজী, প্রশাসনিক উপদেষ্টা খুরশিদুর রহমান, রেজিস্ট্রার রাজিদুল হক এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খালেদ।

অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ মহোদয়কে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা, বিগত সভার প্রস্তাবাবলী পঠন, অনুমোদন, বিবিধ প্রশাসনিক বিষয়ে বিষদ পর্যালোচনা হয়।

উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এর মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ।




চক্রিয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

চক্রিয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চক্রিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে রুমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুমা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা বাহাদুরের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বামী মানিক তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মানিককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।