ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন পটিয়া-আনোয়ারার হাজারো মানুষ, সেতু নির্মানের দাবি

দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভাঙা, কোথাও সড়কের অস্তিত্ব নেই। নিচে খরস্রোতা চানখালী খাল। সেতুতে ওঠার পথটুকুও অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। কোথাও বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে নড়বড়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন টাঙ্গারপুল সেতু পার হচ্ছেন পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের কাছে শতবর্ষের পুরোনো এই সেতুটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলশিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করেন। তবে জরাজীর্ণ সেতু ও ভাঙা সংযোগ সড়কের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো সেতুর পরিবর্তে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।
সরেজমিনে দেখা যায়, চানখালী খালের এক পাশে পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়ন, অন্য পাশে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়ন।
দুই উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম টাঙ্গারপুল সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের বড় অংশ খালে বিলীন হয়েছে। কোথাও বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মানুষ পারাপার করছেন। সেতুর বিভিন্ন অংশও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপরও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষ সেতুটি ব্যবহার করছেন। কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।
পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া এবং আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মাহাতা, দীঘিরপাড়সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। দুই প্রান্তে রয়েছে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বাজার।
আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন রনী বলেন, টাঙ্গারপুল সেতু উন্নত হলে পটিয়া ও আনোয়ারার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
বর্তমানে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমবে।
পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, টাঙ্গারপুল সেতুটিকে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এলজিইডির ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেতুটিকে প্রস্তাবিত ৯৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু হিসেবে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবটি এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তাব পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল সেতুর স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। সেতুর অবস্থান, সংযোগ সড়ক ও সম্ভাব্য নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুনে এলজিইডির ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি অ্যান্ড প্রিপারেশন অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি বিশেষজ্ঞ দল টাঙ্গারপুল এলাকা পরিদর্শন করে। তারা সেতুর সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মতামত সংগ্রহ করে নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতু ও সংযোগ সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাই এলজিইডির প্রস্তাবিত ৯৯ মিটার নতুন সেতুর প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পটিয়া-আনোয়ারার এলাকাবাসী।










