জামায়াতের কর্মকাণ্ডে দ্বিচারিতা স্পষ্ট: রাশেদ খাঁন
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন

জামায়াতের কর্মকাণ্ডে দ্বিচারিতা স্পষ্ট: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের কর্মকাণ্ডে দ্বিচারিতা স্পষ্ট: রাশেদ খাঁন
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াতে ইসলামী মুখে সরকারকে সহযোগিতার কথা বললেও বাস্তবে সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ইসলামী মূল্যবোধ কীভাবে প্রচার করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতের শেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ পরামর্শ দেন। রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত মুখে এক কথা বললেও তাদের কার্যক্রমে পরস্পরবিরোধিতা স্পষ্ট। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াতকে উদ্দেশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ইসলামের মূল্যবোধ কীভাবে প্রচার করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কাছ থেকে আপনারা শিখুন। আপনারা ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। এটি জামায়াতের কাছ থেকে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না। তিনি আরও বলেন, একদিকে ইসলামের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতের কার্যক্রম ও কথাবার্তায় দ্বিচারিতা স্পষ্ট। আগামী ডিসেম্বর মাসে সরকারকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা রাজপথে থাকবেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের জনগণের দাবিকে সামনে রেখে হেফাজতে ইসলাম সবসময় কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা করতে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনার কথাও সবাই জানেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এতটুকু বলতে পারি—বিএনপি সরকার হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর পরিচালিত কথিত গণহত্যা এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাফল্য ও দেশের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড

হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদের ছড়ারকূল এলাকায় হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি নির্গমন করে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। সোমবার(৫অক্টোবর) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুবিন।এসময় তার নেতৃত্বে আল রাজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আল আমিন হোসেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সুত্রে জানা যায়, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ পরিবেশের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কেমিক্যাল গুদামজাতকরণ এবং কেমিক্যালযুক্ত পানি সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে ছড়ারকূল খালে নির্গমণ করে হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানির কারনে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক লক্ষ জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের প্রসিকিউশন টিম এবং হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।

হালদা নদীর পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর সংযুক্ত খাল-ছড়ায় কেমিক্যাল, অপরিশোধিত বর্জ্য কিংবা যেকোনো দূষণকারী পদার্থ নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনও আবদুল্লাহ আল মুবিন জানান।




হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার

হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং বাইতুছ ছালাম জামে মসজিদ ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) নূরানী মাদ্রাসা ও হিফজখানার সুপার ও পরিচালক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মফিজুল আলম। তিনি বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, ব্যাংক হিসাব না খোলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত না মানাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সভাপতি মফিজুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে মাসুম বিল্লাহকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত করার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে মোতোয়াল্লি ও পরিচালনা কমিটি অনুমোদন পেয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের রেজুলেশন করা হয়। কিন্তু এরপরও মাসুম বিল্লাহ প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও ব্যাংকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ভবন ও জায়গা ব্যবহারে অনিয়ম এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ঢাকা ওয়াকফ অফিস, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর মাসুম বিল্লাহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কারণে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রায় আড়াই মাসের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও মসজিদের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা না করার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন নানুপুরীকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা জুনায়েদকে নায়েবে মোহতামিম করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নুরুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম সওদাগর, আলহাজ শামসুল আলম, অর্থ সম্পাদক বদিউল আলম, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল হুদা কোম্পানি ও প্রবাসী তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




সীতাকুণ্ডে কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা, ২৫৫ সদস্যের কমিটি গঠন

সীতাকুণ্ডে কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা, ২৫৫ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি সংগৃহীত।

সীতাকুণ্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা, প্রকাশনা উৎসব এবং মিলনমেলা সফল করতে ২৫৫ সদস্যের উদ্যাপন কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরস্থ উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল মিলনমেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত হয়েছে ১৮টি বিষভিত্তিক উপকমিটি।

উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. মনঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. নুরুল আবছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন। সভায় বক্তারা সীতাকুণ্ডের শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যায়নে এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তা সফল করতে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা আহ্বান জানান।

সভায় সংবর্ধনা আয়োজন ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এতে যুক্ত রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন এডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, অর্থ উপকমিটির সদস্য সচিব লায়ন মফিজুর রহমান সাজ্জাদ, প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক আলহাজ রাজু কামাল ও সদস্য সচিব মাস্টার ইকবাল হুসাইন, এবং শান্তি-শৃঙ্খলা উপকমিটির সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক।

এছাড়া সংবর্ধিত অতিথি নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন গুণীজন সংবর্ধনা উপকমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মো. ফসিউল আলম, মাস্টার আবুল কাশেম, এডভোকেট আবুল হাসান সাহাবুদ্দিন, মুহাম্মদ আবুল হাসনাত ও পলাশ কুমার চৌধুরী। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনে সীতাকুণ্ডে শিক্ষার আলো ও সমাজসেবার ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ করবে এই কমিটি।