জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস: চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করব
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস: চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করব

জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস: চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করব
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, "আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করব।"

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়, বরং গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলোর স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "ঘটনা ঘটেছে আর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা ও ইতিহাস সংগ্রহ করে জাদুঘরে নিয়ে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়।"

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন। পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছেন, সেটিও তারা চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন সেই চিঠির লেখকের মতো হয়। তারা যেন বলে—আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে এসেছি।"

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। শুধু দেখে চলে যাওয়া নয়, তারা যেন এখানে বসে চিন্তা করে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা লিখে রেখে যায়।

তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে; যেন মানুষ জানতে পারে কীভাবে এবং কেন তারা জীবন দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল না। তারা ছিল সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলেমেয়ে। তারা রাজপথে নেমেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করত এই বাংলাদেশ আর আগের মতো চলতে পারে না, আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে এই নোবেলজয়ী অধ্যাপক বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ দেশের মানুষের সামনে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি আশা করি দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এখানে আসবেন। শুধু দেখার জন্য নয়, ভাবার জন্য—কেন এটি ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং এখান থেকে আমরা ভবিষ্যতে কোন পথে এগোর।"




বন বিভাগের সুয়ালক ও বড়দোয়ারা স্টেশনে চাঁদাবাজি!

বন বিভাগের সুয়ালক ও বড়দোয়ারা স্টেশনে চাঁদাবাজি!
ছবি সংগৃহীত।



# বন রক্ষার বদলে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
# চেকপোস্টে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে নির্ধারিত হারে টাকা আদায়
# সুয়ালক ও বড়দোয়ারা চেকপোস্ট ঘিরে চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট
 


বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বন বিভাগের দুটি চেক স্টেশন যেন চাঁদাবাজির ল্যাম্পপোস্ট। বন রক্ষা নয়, বান্দরবান থেকে আসা বৈধ-অবৈধ কাঠবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় তাদের দৈনন্দিন কাজ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জের বড়দোয়ারা চেকপোস্টগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট। নেতৃত্বে আছেন বিট কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল কাদের চৌধুরী। কাঠ-বাঁশ ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকরা এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত টুলের নামে চাঁদাবাজিতে চরম অতিষ্ঠ। নিয়মবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গাছ পাচারে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিট কর্মকর্তা একটি চাঁদাবাজির রেটচার্টও করে রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বিট কর্মকর্তা বৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে গাড়িপ্রতি সাত হাজার টাকা, জিপ গাড়ি থেকে ৫ হাজার টাকা, ফার্নিচারবাহী ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা, জিপ বা ছাদের গাড়ি থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এছাড়া অবৈধ কাঠবাহী ট্রাক থেকে ২০ হাজার টাকা এবং জিপ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। আনুমানিক হিসেবে বিট কর্মকর্তা মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে থাকেন।
এদিকে বান্দরবান বন বিভাগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের মদদপুষ্ট ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ আবুল হোসেন গত ০৩ বছর যাবত বিধিবহির্ভূতভাবে বান্দরবান বন বিভাগে পোস্টিংয়ে আছেন। তিনি প্রায় ২ বছর সদর রেঞ্জে সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে থাকার পর সুয়ালক চেক স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন এবং চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে পোস্টিং না করার বাধ্যবাধকতা আছে। এ কারণে অনেকে তদবির করেও সদর রেঞ্জ হতে চেক স্টেশন ও চেক স্টেশন থেকে সদর রেঞ্জে আসতে পারেন না। কিন্তু ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১ বছর যাবত সুয়ালক চেক স্টেশনের এসও হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সুয়ালক চেক স্টেশনে ১ দিন অবস্থান না করেও পারি দিলেন ১ বছর। প্রতিদিন তার বনজদ্রব্যের গাড়ি চেকিং করার নিয়ম থাকলেও তিনি ফরেস্ট গার্ড দিয়ে চেকিং করান, চলাচল পাশে স্বাক্ষর করেন ফরেস্ট গার্ড। মাঝে মধ্যে তিনি স্টেশনে গিয়ে টাকার ভাগ নিয়ে আসেন। আবুল হোসেন বান্দরবানেও থাকেন না, নিজ শহর কুমিল্লা ও ঢাকাতেই অবস্থান করেন। ছুটি নেওয়ার ধারও ধারেন না। তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলে বেড়ান, তার আত্মীয় মন্ত্রী, তার ভাই সচিব, তার ভাই বন বিভাগের বড় অফিসার, তার আত্মীয় ম্যাজিস্ট্রেট। ডিএফও, সিএফ গোনার তার টাইম নাই।
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সুয়ালক চেক স্টেশনে অবৈধ বনজদ্রব্যের গাড়ি আটক করার সরকারি নিয়ম থাকলেও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো গাড়ি আটক করেননি। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মোটা টাকার বিনিময়ে, আমার কাজ গাড়ি পাস করা আর টাকা আদায় করা। তিনি রাতের আঁধারে কর্তন নিষিদ্ধ চম্পাফুল, গোদা, গুটগুটিয়া, গর্জন, শিউরীসহ মূল্যবান কাঠের গোল, রদ্দা ও চিড়াই কাঠের গাড়ির লাইন দেন। গাড়িপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি নিয়ে থাকেন। টিপির গাড়ি ফ্রি থাকলেও অবৈধভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ও কোনো কোনো গাড়িতে অবৈধ কাঠ নেওয়ার চুক্তিতে গাড়িপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেন। প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেন। কথিত আছে, তিনি অবৈধ চাঁদার ভাগ ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নিয়মিত পৌঁছে দেন।
২ মাস পূর্বে বান্দরবান বন বিভাগ হতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে বদলি হলেও তিনি এখনও সুয়ালক চেকপোস্টে বহাল তবিয়তে আছেন। আবুল হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জারের শক্তির কাছে বন বিভাগ হেরে যাচ্ছে।
 




দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।”

একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোন বিষয় নিয়ে এমনকী স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষ্যেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘সৃষ্টির সেরা জীব যদি আমরা হয়ে থাকি, তাহলে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন বলেন, আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা। উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় কিন্তু এক। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক।’ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান
ছবি সংগৃহীত।

কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ও আসামির পালিয়ে যাওয়া রোধকল্পে শনিবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন।

পিবিআই আরও জানায়, এর আগে গত ২২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৪ আগস্ট মুক্তি পান। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।