চাঁদাবাজি করলে দল ছাড়ুন, না হলে আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে: সরোয়ার আলমগীর

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কাউকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, দলের পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (১৫ আগস্ট) ফটিকছড়ির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘কাউকে ধরে এনে জিম্মি করে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস করা হবে—সেটা আমি সরোয়ার আলমগীর হতে দেব না। সেটা যদি করতে হয়, তাহলে আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। সে যেই হোক, কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে আমার ভাই হলেও ছাড় পাবে না।’
চাঁদাবাজদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁকে ফোন করছেন উল্লেখ করে সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমাকে ফোন করেন। আমি চাঁদাবাজদের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না। আমি তাদের সতর্ক করতে চাই—যাদের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করার ন্যূনতম চিন্তা আছে, তারা তা থেকে সরে আসুন। আর না হলে দল ছেড়ে চলে যান।’
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘ফটিকছড়ির মানুষ শান্তি চায়। আওয়ামী লীগের ১৭ বছর ফটিকছড়ির মানুষ শান্তিতে ছিল না। ৫ আগস্টের পর তথাকথিত ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফটিকছড়ির মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফটিকছড়ির মানুষ তাদের বিপক্ষে গিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে একই কাজ আমাদের দলের লোকজন করবে। আমি সেটা হতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করা। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোয়া মাহফিলে বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী ও নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









