সংবাদ প্রকাশের পর লামার ফাইতংয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় ৫ ইটভাটাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন

সংবাদ প্রকাশের পর লামার ফাইতংয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় ৫ ইটভাটাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

সংবাদ প্রকাশের পর লামার ফাইতংয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটায় ৫ ইটভাটাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে পাহাড় কাটার অপরাধে ৫টি ইটভাটাকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে ইট তৈরির জন্য প্রস্তুত করতে অবৈধভাবে পাহাড় ও মাটি কাটছিল স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটা। সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্টে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’-এর ১৫ ধারায় ৫টি পৃথক মামলায় ৫ জনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইটভাটাগুলোর মধ্যে পাহাড় ও মাটি কাটার মূল অপরাধে ডিবিএম (DBM) ও ইউএমবি (UMB)-কে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এমএমবি (MMB), এমবিআই (MBI) এবং এবিসি৪ (ABC4) নামের অপর তিনটি ইটভাটাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন জানান, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লামায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে প্রায় ৪০টি ইটভাটার জন্য মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দেদার পাহাড় ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ ও ‘দৈনিক সাঙ্গু’সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।




বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লামায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লামায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
ছবি সংগৃহীত।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বান্দরবানের লামায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসা, ত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম ও অদম্য সাহস দেশবাসীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর এই অবদান ও আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এ সময় উপস্থিত নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামকে মহান আল্লাহর দরবারে কবুল করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা জানান।

এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:

  • মোঃ জাকের হোসেন, আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল, লামা উপজেলা

  • জোছনা বেগম, সভাপতি, মহিলা দল, লামা উপজেলা

  • মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব, যুবদল, লামা উপজেলা

  • মোঃ ইব্রাহিম, আহ্বায়ক, কৃষক দল, লামা উপজেলা

  • বাবু মং মারমা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, বান্দরবান জেলা যুবদল

  • মোঃ আমির হোসেন, সদস্য সচিব, কৃষক দল, লামা উপজেলা

  • মোঃ বেলাল উদ্দিন, আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দল, পৌর শাখা

  • মোঃ চান মিয়ামোঃ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক, লামা উপজেলা ছাত্রদল

  • মংসাই মারমা, সাধারণ সম্পাদক, গজালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল এবং আহ্বায়ক সদস্য, উপজেলা ছাত্রদল

  • মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, আহ্বায়ক, পৌর ছাত্রদল

  • আল আমিন, নেতা, যুবদল, লামা উপজেলা

এ ছাড়া মাহফিলে লামা উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়।




নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির সফল অভিযানে ইয়াবার বড় চালান আটক

নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির সফল অভিযানে ইয়াবার বড় চালান আটক
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর টহলদল কর্তৃক মাদকবুলক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন ২০ (বিশ) কাট বা ২,০০,১০০ (দুই লাখ এক শত) পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

১৫ আগস্ট অধিনায়ক নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সীমান্ত পিলার ৪৮/৪ এস এবং শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দোছড়ি, তোন্দুলেরমুখ (০২ নং ওয়ার্ড, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন, ডাকঘর: গর্জনিয়া, থানা: রামু, জেলা: কক্সবাজার) নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত স্থানে চোরাকারবারিদের অবস্থান করতে দেখে বিজিবির টহলদল ধাওয়া করলে তারা সাথে থাকা একটি বস্তা ফেলে জঙ্গলের ভেতর পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবির টহলদল বস্তাটি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০ কাট বা ২,০০,১০০ (দুই লাখ এক শত) পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির বলেন, "দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।"

উল্লেখ্য, বর্তমান অধিনায়ক যোগদান করার পর থেকে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে রেকর্ড পরিমাণ ইয়াবার চালান আটক করা হয়।




নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ডাক পেলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক জিয়াবুল হক

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারা ডাক পেলেন ছাত্রদল আহ্বায়ক জিয়াবুল হক
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইজারার দ্বিতীয়বারের মতো ডাক সম্পন্ন হয়েছে। এবার ইজারা পেয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক। এ পরিষদের প্রথম ডাক বাতিল হওয়ায় বুধবার পুনরায় এ ডাকের আয়োজন করেন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুব এলাহী। তিনি জানান, বান্দরবানের সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার, ঘাট ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ের জন্য দেওয়া ইজারার ডাক সম্পন্ন হয়েছে।

এ ইজারা ডাকের জন্য নানা শ্রেণি-পেশার ২৩ জন মানুষ দরপত্র জমা দেন। তবে ইজারা ডাকার সময় উপস্থিত ছিলেন ২২ জন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জিয়াবুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা নুরুল আবসার সোহেল এবং তৃতীয় দরদাতা মোহাম্মদ কামাল।

প্রশাসক আরও জানান, প্রথম দরদাতা জিয়াবুল হক হাঁকিয়েছেন ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থাৎ দ্বিতীয়জন ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয়জন ৫৯ লাখ টাকা পর্যন্ত হেঁকেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে গত ১২ মে প্রথমবারের মতো ডাকের আয়োজন করা হয়। এতে রেকর্ডসংখ্যক ১৩৬ জন দরদাতা অংশ নেন। সে সময় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন উপজেলা সদরের নুরুল আবসার সোহেল এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন জাকের আহমদ। সেবার নুরুল আবসার সোহেল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং জাকের আহমদ ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমজন ইজারা নেওয়া থেকে সরে দাঁড়ালে (সারেন্ডার করায়) দ্বিতীয়জন তা নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে সেই ইজারা বাতিল করে প্রশাসন। সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় টোল-ট্যাক্স আদায় কিন্তু বন্ধ হয়নি; সরকারি স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন নিজস্ব লোকবল দিয়ে খাস কালেকশন (সরাসরি আদায়) চালিয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে প্রকাশ্যে ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুনরায় এ ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান ইতু বলেন, "অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এ ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে।" আগেরবারের চেয়ে ৬০ লাখ টাকা কমে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "ইজারাদারেরা তাদের নানা সমস্যার কথা জানিয়ে ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি দর হাঁকেননি। ফলে বাধ্য হয়ে কম হলেও সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

এদিকে স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, এবার যিনি ইজারা পেয়েছেন তিনি উপজেলা ছাত্রদলের একাংশের আহ্বায়ক জিয়াবুল হক। আর আগের বার যিনি সর্বোচ্চ দর হেঁকেছিলেন, তিনি বিএনপি একাংশের জ্যেষ্ঠ নেতা নুরুল আবসার সোহেল।