চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নগরজুড়ে উৎসবের আবহ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ, কোথাও ধোয়া-মোছা ও আলোকসজ্জা। অন্যদিকে, নগরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে চলছে সংস্কার, কার্পেটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সড়কের বিভাজকে নতুন করে রং করা হচ্ছে, অপসারণ করা হচ্ছে পোস্টার। ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানও সরানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে বন্দরনগরীতে চলছে প্রস্তুতি।

এই প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তার। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধানের চট্টগ্রামে এসে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজার আয়োজনে যুক্ত হয়েছে বাড়তি উৎসাহ। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতাও বেড়েছে। সফরকে ঘিরে নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাব্যবস্থা, চলছে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক বৈঠক।

সোমবার নগরের কাজীর দেউড়ি, জামালখান ও আন্দরকিল্লা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কের বিভাজকে নতুন করে রং দেওয়া হয়েছে। সরানো হচ্ছে পোস্টার ও ব্যানার। ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও অতিথিদের বরণ করার প্রস্তুতি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নগরের এই পরিবর্তন শুধু সড়ক ও স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে সীমাবদ্ধ নেই; দুর্গোৎসবের আয়োজনে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বাড়তি গুরুত্ব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সফরের অংশ হিসেবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পূজামণ্ডপে শুভেচ্ছা বিনিময়, পরে সাংগঠনিক সভা

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, মহানগর বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থানের পর তিনি নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু-তে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। পরে রাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সাংগঠনিক সভায় বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ইউনিটের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকায় সেখানকার জ্যেষ্ঠ নেতারা সভায় অংশ নেবেন।


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। সভায় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারাও থাকবেন।

দলের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নিয়ে এ ধরনের সভা তৃণমূলের সংগঠকদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। গত শনিবার সকালে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

একই দিন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। দুপুরে সেখানে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এর আগে ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে বিএনপি, মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্‌যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়। ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউসেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন রাতে পানি সম্পদমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নেতৃত্বে প্রশাসন ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে সভা হয়। একই রাতে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও বৈঠক করেন।

চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল প্রাঙ্গণ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে পূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময় প্রাঙ্গণটি সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, বন্দরনগরীর পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী আসছেন, এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তার চট্টগ্রাম আগমন আনন্দের বিষয়। সফর সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তার আগমন ঘিরে নগরে উৎসাহ ও আন্তরিকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এসএসএফের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে এসআরবির যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রয়েছে।

এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উপহার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন মন্দির, সংগঠন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির মাধ্যমে এসব উপহার দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৯ অক্টোবর জে এম সেন হলের মাঠে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পূজার উপহার বিতরণ করেন। এ ছাড়া নগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে এখন একদিকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা তৎপরতা, অন্যদিকে দুর্গোৎসবের আয়োজন। পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালো হবে।




সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে এর বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগ থাকার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি কেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে একটা তথ্যের ঘাটতি ছিল, প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় একটা ত্রুটি আছে। এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলছি।’

ঘটনাটিকে হতাশাজনক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটা যদি হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।’

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ব্লাড মানি বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন সে সুযোগ আর নেই। তথ্যের ঘাটতি কোথায় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় এবং তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে তা জানানোর প্রত্যাশা থাকে। এতে আটক ব্যক্তির নিজ দেশ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একই প্রত্যাশা ছিল।

তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে পারে। তবে এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়, যোগাযোগ ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি কোথায় হয়েছে, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

এর আগে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এ সময় সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো আগের একটি কূটনৈতিক পত্রের অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
ছবি সংগৃহীত।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দল চায়নি, আমি নিজে থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমি আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামব, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব।




প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
ছবি সংগৃহীত।

রাজধানীর গেন্ডরিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার দুই দিন পর সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের এ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ শপথ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি।

তিনি আরও বলেন, গত ২ দিন একটি বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। সেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে আজকের সংবাদ সম্মেলন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের দিন হতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।

আজ সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুরের সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এর আগে গতকাল রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জেরে রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।