চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ

চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের নামাজের স্থান বন্ধ, ধর্মপ্রাণ নারীদের ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

এবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নারীদের নামাজের স্থানটি। কিছুদিন আগেও হাসপাতালের নির্ধারিত এই নামাজের স্থানে ময়লা-পানি ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখে নামাজ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার আরও একধাপ এগিয়ে নামাজের স্থানটি থেকে পর্দা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেয়ালে থাকা ‘নারীদের নামাজের স্থান’ লেখা সাইনবোর্ডটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নারী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ধর্মীয় ইবাদতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নামাজের স্থানটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে নারী রোগী ও স্বজনদের নামাজ আদায়ের ন্যূনতম সুযোগটুকুও কি থাকবে না?

তবে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. জয়নুল আবেদীন বলেন, “নামাজের স্থানটি সংস্কারের জন্য জিনিসপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নামাজের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করে আবার নামাজের ব্যবস্থা করা হবে।”

নামাজের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর স্বজন।




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন: ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে?
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের মানুষ কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।’

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটনের বিকাশের জন্য এসব এলাকা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব এলাকাজুড়েই পর্যটনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে গুরুত্ব না দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ সন্ধ্যায় বিমানযোগে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।




পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা

পল্লী চিকিৎসকদের সঙ্গে এভারগ্রীন হাসপাতালে মতবিনিময় সভা
ছবি সংগৃহীত।

সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চকরিয়া এভারগ্রীন হাসপাতালে পল্লী ডাক্তার সমিতির একাংশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সভাপতি ডাক্তার জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ডাক্তার ফয়সাল আহমেদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারগ্রীন হাসপাতাল চকরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সাইদুল হক চৌধুরী।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার সুরাইয়া শারমিন প্রমা এবং বিভিন্ন এলাকার পল্লী চিকিৎসকসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চকরিয়া পল্লী ডাক্তার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার প্রদীপ দাশ।




কক্সবাজারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে খতমে কোরআন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

কক্সবাজারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে খতমে কোরআন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে শহীদদের স্মরণে খতমে কোরআন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজার-এর যৌথ উদ্যোগে গৃহীত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির পঞ্চম দিনে (৪ আগস্ট) বিকেলে জুলাই শহীদদের স্মরণে এই খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।

তিনি বলেন, “মাফিয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন জিম্মি করে রেখেছিল। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ছিল না। তাদের কারণে পুরো দেশ অস্তিত্বসংকটে পড়েছিল। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতার কারণে সত্য সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। একশ্রেণীর চাটুকারিতার কারণে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগ। তবে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে এখন মুক্ত সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

সমাজের মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও বাস্তবচিত্র সংবাদমাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।

তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত না দিলে বিদেশি প্রভুত্ব ও দাসত্ব থেকে মুক্তি পেত না বাংলাদেশ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিশায় বাংলাদেশ এখন নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতারুল আলম ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী।

প্রেসক্লাবের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও কর্মসূচি উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব হাসানুর রশীদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা শামসুল হক শারেক, প্রেসক্লাবের সদস্য অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, ক্রীড়া সম্পাদক এম আর মাহবুব, সিবিএন-এর বার্তা সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সদস্য ইমাম খাইর এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম।

আলোচনা সভার শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সদস্য হুমায়ুন সিকদার।

চব্বিশের জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন শহিদুল ওয়াহেদ শাহেদ, মুহাম্মদ খালিদ বিন সাঈদ, সাহাব উদ্দিন, আবদুল মোমেন খান, আরিয়ান খান ফারাবি ও ফাহমিদা হাসান হেবা।

আলোচনা সভা শেষে ‘জুলাই স্মৃতি গ্রাফিতি’ অঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন। প্রতিটি দিনের কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।