চকরিয়ায় বিএনপি নেতা মামুনের অর্থায়নে টানা চতুর্থ দফায় ত্রাণ বিতরণ
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

চকরিয়ায় বিএনপি নেতা মামুনের অর্থায়নে টানা চতুর্থ দফায় ত্রাণ বিতরণ

চকরিয়ায় বিএনপি নেতা মামুনের অর্থায়নে টানা চতুর্থ দফায় ত্রাণ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে টানা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন।

গত রবিবার শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) চতুর্থ দিনের মতো ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখাব উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম মেম্বার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আয়ুবসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মামুনুর রশীদ মামুন জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় শুধু খাদ্যসংকটই নয়, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ত্রাণগ্রহীতা ও স্থানীয়রা জানান, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ কোনো জনপ্রতিনিধি বা বিত্তবান ব্যক্তির কাছ থেকে দেখা যায়নি। তারা জানান, জনপ্রতিনিধি না হয়েও মামুনুর রশীদ মামুন দিন-রাত পরিশ্রম করে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয়রা আরও বলেন, সমাজের অন্যান্য সচ্ছল ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও যেন দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন, সেটিই এখন সময়ের দাবি।




মানিকপুরে নদীভাঙন রোধ ও পুরাতন জামে মসজিদ-কবরস্থান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

মানিকপুরে নদীভাঙন রোধ ও পুরাতন জামে মসজিদ-কবরস্থান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে উত্তর মানিকপুর পুরাতন জামে মসজিদ, কবরস্থান এবং শতাধিক বসতঘর। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের পর দুপুর আড়াইটার দিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, কবরস্থানসহ শতাধিক পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্লক ফেলে নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন, মাওলানা ডা. আব্দুল গনি, নুর হোসেন, নুরুল আমিন, আনিস চৌকিদার, শাহাব উদ্দিন, জাহাঙ্গীর, হামিদ হোসেন, তারেক, আজিজুল হক ও এরশাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ সময় এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তর মানিকপুরের বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।




চকরিয়ায় ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ, নোংরা পানিতে মাছের ঘেরে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি

চকরিয়ায় ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ, নোংরা পানিতে মাছের ঘেরে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ভাইয়াকাটা এলাকায় দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের পথ জোরপূর্বক বন্ধ এবং খতিয়ানভুক্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা কেটে নতুন ড্রেন নির্মাণ করে বসতভিটা ও মাছের ঘেরের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা এবং অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের ড্রেনের মুখে মাটি দিয়ে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি জমে বসতভিটা ও মাছের ঘের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ এবং জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী হারবাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা মিজানুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে তিনি আব্দুল হামিদের কাছ থেকে ৩৫ কড়া নাল জমি ক্রয় করেন। মানবিক কারণে পাশের জমির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে নিজের জমির ওপর দিয়ে একটি ড্রেন খনন করেন। কয়েক বছর ধরে ওই ড্রেন দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করলেও সম্প্রতি অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ড্রেনের মুখে বাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সালিসি বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। তবে অভিযুক্তরা বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জসিম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমজাদ হোসেন, শাহ আলম, নাজেম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, আরিফ, শাহেদ, এহসান, আজিম ও নুরুল আবছারসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অভিযোগকারী ড্রেনের মুখে নির্মিত বাঁধ অপসারণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা যেমন ইচ্ছা তেমন লেখেন, আমার কিছু হবে না।”

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত গজালিয়া ব্রিজ আদৌ চলাচলের উপযোগী হবে কি?
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকায় ঈদগাঁও খালের ওপর প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু পাঁচ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্প জনসাধারণের কোনো কাজে না এসে এখন উল্টো জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই মই তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।

১৭ জুলাই এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুতে ওঠানামার জন্য বড় একটি মই স্থাপন করেন। মুহূর্তেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় পাঁচ বছর আগে ঈদগাঁও খালের ওপর ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। কিন্তু উভয় পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি আজও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি চালু হলে ঈদগাঁও উপজেলার সঙ্গে পাহাড়ি জনপদ ঈদগড়, বাইশারী ও গর্জনিয়ার যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তখন আর যাত্রীদের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ডাকাতি ও অপহরণের জন্য কুখ্যাত হটস্পট—হিমছড়ি, খেত ও সাঁততরা ডালা অতিক্রম করতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে যাতায়াত করেন। বিকল্প এই সেতু চালু হলে লাখো মানুষ নিরাপদ পথে চলাচলের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা এবং ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঁচ বছর ধরে কোটি টাকার সেতুটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, এই সেতু চালু করা এখন জনগণের প্রাণের দাবি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল জানান, পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ায় প্রকল্পটি আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বانের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকলেও মানুষের চলাচলের প্রয়োজন থেমে নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অস্থায়ী মই বেয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? কোনো প্রাণহানির পর কি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়বে?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চালু করা হোক। এতে শুধু পাঁচ বছরের দুর্ভোগের অবসানই হবে না, বরং ডাকাতি-অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ঈদগাঁও-ঈদগড়সহ পাহাড়ি জনপদের লাখো মানুষের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।