’গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রের দাবি চকরিয়া জমজম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

কক্সবাজারের চকরিয়ার জমজম হাসপাতাল পিএলসি তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘গলাকাটা বিল’ আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একটি চক্র চাঁদাবাজিতে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সিইও গোলাম কবির।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমজম হাসপাতাল এই এলাকার অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে থাকেন।
হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৫০০ টাকা এবং মেডিকেল অফিসারের (এমবিবিএস) ফি ২০০ টাকা। ভর্তি রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে দুবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিদর্শন করেন। এক দিনের চিকিৎসক ফি, সার্ভিস চার্জ ও সিট ভাড়া—প্রতিটি ৭০০ টাকা করে নির্ধারিত রয়েছে, যা প্রায় এক বছর ধরে কার্যকর। অসচ্ছল রোগীদের ক্ষেত্রে বিলে ছাড়ও দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই তিন দিন বয়সী নবজাতক আফরা মনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের অধীনে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে ২ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। চার দিনের পরিবর্তে তিন দিনের বিল করা হয় এবং মোট ৮ হাজার ৫০ টাকা থেকে দুই দফায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা মওকুফ করে ৬ হাজার ۷০০ টাকা রাখা হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ঘটনা ঘটেনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মূল বিলের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে। ২ হাজার ১০০ টাকা সার্ভিস চার্জ ও ২ হাজার ১০০ টাকা চিকিৎসক ফি আদায়ের মতো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতি শুক্রবার হাসপাতালে ২০ জনের বেশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকার তুলনায় এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফি কম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ফিজিওথেরাপি, ট্রমা সেন্টার, উন্নত ল্যাবসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা অব্যাহত থাকলে তা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চকরিয়ায় সেবা দিতে নিরুৎসাহিত করবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল করিম, পরিচালক জি এম রুকন উদ্দিন, ডা. ফয়জুর রহমান, ডা. নাসিমা আক্তার, ডা. হেনরিয়েটা গোমেজ, ডা. ফখরুল আনাম ও সামশুদ্দিন আহমদ।











