কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্ধকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর...
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্ধকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্ধকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। "স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ" ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অভিভাবক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনায় ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৩ টাকার আর্থিক ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নীতিমালার পরিপন্থীভাবে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁস-মুরগি ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানের স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। সেখানে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।




ধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের প্রত্যাশা: শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা

ধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের প্রত্যাশা: শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করা
ছবি সংগৃহীত।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সাক্ষাৎকে দেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বির সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন তারা।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “হেফাজতে ইসলামের আমির ও আমাদের শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়া নিতে আসছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের একজন প্রধান দেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বির সান্নিধ্যে আসছেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাব।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশের মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। সামাজিক হানাহানি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে যেন দেশ মুক্ত থাকে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।”

দেশে ইসলামবিদ্বেষী কোনো শক্তি যাতে মানুষের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন হেফাজতের এই মুখপাত্র।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও বলেন, “আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব ও দাবি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।” তবে এই সাক্ষাৎকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হুজুরের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ ও দোয়ার অনুষ্ঠান।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আলেমদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




জোট নয়, ইসলামের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা: ইসলামাবাদী

জোট নয়, ইসলামের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা: ইসলামাবাদী
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাক্ষাৎকে স্বাগত জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। এ সাক্ষাতে ইসলামের স্বার্থে কোনো আইন না করা এবং চট্টগ্রামে আরও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শেখ হুসাইন মুহাম্মদ ইসলামাবাদী।

রবিবার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হুসাইন মুহাম্মদ ইসলামাবাদী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, এতে আমরা খুবই খুশি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মেহমান হিসেবে আসছেন; তাই আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি থাকবে না। তবে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে দুটি বিষয় তুলে ধরব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আইন যেন সংসদে পাস না হয়, এটি আমাদের প্রথম দাবি। ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ ও কোরআন-হাদিসের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়ে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফটিকছড়িতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আদলে বা এর আওতায় আরও একটি বড় ও আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাব। চট্টগ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের জন্য এটি প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হেফাজতের অন্য নেতাদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তবে কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি বা সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের কোনো জোটের আলোচনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামাবাদী বলেন, ‘এটি কোনো জোটের আলোচনা নয়। মাদ্রাসা ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের যে সম্পর্ক রয়েছে, সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে আলোচনা হবে। ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ও ইসলামের স্বার্থে আমরা সব সময় সরকারের সহযোগিতা করতে চাই। তবে ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হলে আমরা তার প্রতিবাদ করব এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরের এ সাক্ষাৎ দেশের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।




হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা

হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা—নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ি সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সফরস্থল, সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় চলছে কঠোর নজরদারি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগরের সংশ্লিষ্ট সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরস্থল একাধিকবার পরিদর্শন করে নিরাপত্তার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেছেন।

ফটিকছড়ির পাইন্দংয়ের পেলাগাজী দিঘি হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা চৌকি ও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সফরপথের আশপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের কয়েকটি ভেন্যুতে সফর রয়েছে। সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’