কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্ধকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। "স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ" ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অভিভাবক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনায় ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৩ টাকার আর্থিক ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নীতিমালার পরিপন্থীভাবে নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁস-মুরগি ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানের স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। সেখানে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরে একটি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা জানান, সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।









