এক দিনের ব্যবধানে কমলো সোনার দাম
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

এক দিনের ব্যবধানে কমলো সোনার দাম

এক দিনের ব্যবধানে কমলো সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একইসঙ্গে কমানো হয়েছে অন্যান্য মানের সোনা ও রুপার দামও।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। অর্থাৎ এক দিন না যেতেই আবারও দাম সমন্বয় করল সংগঠনটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় তেজাবি সোনা ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নতুন দরে সোনার দাম

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের সোনার গয়না প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৮ হাজার ২৬৫ টাকা। এক ভরির দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৫ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং এক ভরির দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা।

অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮১৫ টাকা। সে হিসাবে এক ভরির দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

রুপার দামও কমেছে

সোনার পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার গয়নার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি গ্রামের দাম ৩১৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি গ্রামের দাম ১৯৫ টাকা।

গয়না কেনাবেচায় যেসব নিয়ম

বাজুস জানিয়েছে, গয়নার নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

পুরোনো গয়না বদলের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ বাদ দিতে হবে। আর পুরোনো গয়না কেনার ক্ষেত্রে বাদ দিতে হবে ১৮ শতাংশ। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন এ দাম কার্যকর থাকবে।

আগের দিনই বেড়েছিল সোনার দাম

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ২৬৫ টাকা। সে হিসাবে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৩৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৭ টাকা।

বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত দরের তুলনায় শুক্রবার ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি গ্রামে ১৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে এক ভরিতে দাম কমেছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটে প্রতি ভরিতে প্রায় ১ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ১ হাজার ১০৮ টাকা কমেছে।

এর আগে টানা চার দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। এরপর বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আবারও দাম বাড়ানো হয়। তবে শুক্রবার তেজাবি সোনার দাম কমার প্রেক্ষাপটে নতুন করে দাম সমন্বয় করলো সংগঠনটি।




অক্টোবরের ২৮ দিনে এলো ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

অক্টোবরের ২৮ দিনে এলো ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ছবি সংগৃহীত।

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৮ দিনে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১১২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে ৯৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর আগে, সদ্য বিদায় সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।




রোজার আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

রোজার আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।’

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।

পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ দেশের অন্যান্য রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানির মূল্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।

তবে আগস্টে রফতানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজারটির মোট আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শীর্ষে বাংলাদেশ, কমেছে বাজার হিস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও প্রথম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য।

তবে গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রফতানি আয় কমার পাশাপাশি বাজারে বাংলাদেশের অংশও কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশের পর ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে পাকিস্তান থেকে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং তুরস্ক থেকে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইইউ।

বাংলাদেশের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি হ্রাসের তুলনায় বেশি। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগস্টে বাড়লো রফতানি

বছরের প্রথম সাত মাসে দুর্বল অবস্থানের পর আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি—সুনির্দিষ্ট হিসাবে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রফতানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আগস্টে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। এ মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল  বলেন, আগস্টে ইইউর ডেনিম আমদানিতে যে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রফতানি আয়ে যে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আট মাস শেষে তা কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তুরস্ক বাজার হারালো, এগিয়েছে চীন ও মিসর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় বাজারটিতে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তুরস্ক থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থের হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি কমার পেছনে তুরস্কের রফতানি হ্রাস বড় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে মরক্কো থেকে আমদানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাকিস্তানের কমেছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং তিউনিসিয়ার ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এর বিপরীতে কয়েকটি দেশের ডেনিম রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিসরের রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

পরিমাণগত হিসাবে মিসরের রফতানি বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, চীনের ৩ কোটি ইউরো এবং ভিয়েতনামের ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রচলিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের কয়েকটি দেশ ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়লেও চীন, মিসর ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো রফতানি বাড়াতে পেরেছে। তবে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

বাজার ধরে রাখতে দ্রুত সরবরাহে গুরুত্ব

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আগস্টের প্রবৃদ্ধিও রফতানির সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করলেই এ বাজারে অবস্থান ধরে রাখা যাবে না।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের ক্রেতাদের নতুন ক্রয়াদেশ পেতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অল্প সময়ে নকশা ও পণ্যে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি সরবরাহকারী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রফতানির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও নমনীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ করা। আগস্টের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।