উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ শোধের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, রিজার্ভে দ্বিগুণ চাপ
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ শোধের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, রিজার্ভে দ্বিগুণ চাপ

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ শোধের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, রিজার্ভে দ্বিগুণ চাপ
ছবি সংগৃহীত।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩.২ শতাংশে। বিপরীতে আগামী পাঁচ অর্থবছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।

ফলে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং রিজার্ভের পর্যাপ্ততা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইএমএফের অক্টোবর ২০২৬-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ হার বাস্তবায়িত হলে ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের পর দেশের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি হবে। একই প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ১০. ৯ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৮ দশমিক ৭ শতাংশের চেয়ে বেশি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের এই অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগামী বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে।

পাঁচ বছরে ঋণ পরিশোধ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় ২৫ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পরিমাণ বেড়ে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রাক্কলন করা হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। এরপর ২০২৯-৩০ অর্থবছরে বার্ষিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে নেওয়া বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই চাপ বাড়ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা মেট্রোরেল এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণসহ বড় প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছু ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়া বা শেষ হওয়ার পর্যায়ে থাকায় মূল ঋণ পরিশোধের দায় বাড়ছে বলে ইআরডির তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঋণ পরিশোধের এই অঙ্ক শুধু সরকারি বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করে না; বিদেশি ঋণের অর্থ ডলারে পরিশোধ করতে হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে ঋণের কিস্তি কোন উৎস থেকে পরিশোধ হচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের দায় কতটা এবং একই সময়ে নতুন ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা কত আসছে। এসব হিসাব বিবেচনায় না নিয়ে শুধু মোট ঋণ পরিশোধের অঙ্ক দিয়ে রিজার্ভের ওপর চাপের পূর্ণ চিত্র নির্ধারণ করা যায় না।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে আমদানি ব্যয়েও চাপ

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যার মানে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। একই পরিমাণ পণ্য আমদানি করতেও বেশি ডলার প্রয়োজন হলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। আবার টাকার অবমূল্যায়ন হলে আমদানিকারকদের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে শুধু আমদানি ব্যয়ই বাড়ে না; পরিবহন ও উৎপাদন খরচের মাধ্যমে তা অন্যান্য পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রিজার্ভের ওপর প্রকৃত চাপ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মূল্য পরিবর্তনের পাশাপাশি আমদানির পরিমাণ, সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি, মূল্য পরিশোধের সময়সূচি এবং বিনিময় হারও বিবেচনা করতে হবে।

চাল, পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের দেশীয় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে আমদানি বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমানো বা আমদানি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে এবং ডলারের বিনিময় হার প্রতিকূলে থাকলে আমদানিকারকের ব্যয় পুরোপুরি কমে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ব্যবস্থাপনা, দুটি বিষয়ই নীতিনির্ধারকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রবৃদ্ধি কমলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ঝুঁকি

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটি গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। নতুন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি কমে গেলে রপ্তানি আয় বা বিদেশি বিনিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। তবে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক চাহিদায় দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা দিলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা দুর্বল হলে অথবা উৎপাদন ব্যয় বেড়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমলে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

প্রবাসী আয়ও বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়লে বৈদেশিক লেনদেনে স্বস্তি তৈরি হয়। তবে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ করা, বিনিময় হারে বাস্তবসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের প্রণোদনা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসার পরিবেশ, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যাংকিং খাতের আস্থা এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হতে পারে। ফলে রিজার্ভের স্থিতিশীলতার জন্য শুধু আমদানি কমানোর ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বৈদেশিক ঋণে আতঙ্ক

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের প্রাক্কলন অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে এই অঙ্ককে এককভাবে ঋণসংকট বা রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ২৫ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৯-৩০ অর্থবছরে বার্ষিক ঋণ পরিশোধের দায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে।

ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নির্ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ঋণের শর্ত, সুদের হার, মেয়াদ, নতুন ঋণপ্রবাহ এবং সরকারি রাজস্বের ওপর। দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তের ঋণ এবং স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ঝুঁকি এক নয়। তাই নতুন ঋণ নেওয়ার আগে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফল, ভবিষ্যৎ বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনা করা জরুরি।

একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ দিয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবহন সুবিধা ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রকল্পের সুফল ও ঋণ পরিশোধের দায়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে ভবিষ্যৎ বাজেট ও বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়তে পারে বলছে আইএমএফ।

রিজার্ভের ওপর চাপ কতটা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ অক্টোবরের হিসাবে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ হিসাব পদ্ধতির পার্থক্যে দুই অঙ্কের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধান রয়েছে।

প্রবাসী আয় ও রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আসা রিজার্ভের জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনি আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ডলার বেরিয়ে যায়। ফলে রিজার্ভের স্থিতি নির্ভর করে বৈদেশিক মুদ্রা আসা ও বেরিয়ে যাওয়ার সামগ্রিক ভারসাম্যের ওপর। রেমিট্যান্স বাড়লেই যে রিজার্ভের ওপর সব ধরনের চাপ দূর হবে, তা নয়, একইভাবে ঋণ পরিশোধের অঙ্ক বাড়লেই রিজার্ভ দ্রুত কমে যাবে। এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ সামাল দিতে প্রথমেই বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্য রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বৈধ পথে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে আইএমএফ প্রতিবেদনে।

দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। কোন বছরে কত ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে, কোন প্রকল্প থেকে কী ধরনের অর্থনৈতিক সুফল আসবে এবং নতুন ঋণ নেওয়ার ফলে ভবিষ্যৎ দায় কতটা বাড়বে। এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তৃতীয়ত, আমদানি ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্যের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, কৃষি উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে হবে। নির্বিচারে আমদানি সংকোচন করলে উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। তাই অগ্রাধিকার নির্ধারণে সতর্ক নীতি প্রয়োজন।

চতুর্থত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় জরুরি। বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা উন্নত করলে অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অঙ্ক ধরে রাখা নয়; বরং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্য তৈরি করা। রিজার্ভের পর্যাপ্ততা, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি ও কার্যকর সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আইএমএফ বার্ষিক প্রতিবেদনে।




জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় পরিকল্পনা সরকারের

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় পরিকল্পনা সরকারের
ছবি সংগৃহীত।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন, তিন থেকে চারটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিল গঠন এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকির আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার নিরলস কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস অনুসন্ধান এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড় ও প্রণোদনা
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা
গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব টার্মিনাল স্থাপনে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছাকাছি গভীর পানির একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ২০ মিটার গভীরতায় বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


রাজস্ব প্রশাসন ও ব্যাংক খাতে সংস্কার
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমাতে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিল
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।




শনিবার খোলা থাকবে সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

শনিবার খোলা থাকবে সব ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
ছবি সংগৃহীত।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে কাল শনিবার ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খোলা থাকবে।    

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিন বন্ধ থাকবে। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন (২০–২৪ অক্টোবর) সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ কর্মদিবসের মতো ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে, ৭ অক্টোবর পূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নবমী উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে আগেই ছুটি ঘোষণা ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবারও) নির্বাহী আদেশে ছুটি দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

তবে, ২২ অক্টোবরের ছুটির পরিবর্তে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা থাকবে।




এআইয়ের ঝুঁকি সামলানোর তাগিদ আইএমএফের

এআইয়ের ঝুঁকি সামলানোর তাগিদ আইএমএফের
ছবি সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, ব্যবসার দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এআইয়ের কার্যকর বিস্তার ঘটাতে সময় লাগবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বাজারে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে এমন আলোচনা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইড ইভেন্টে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এআই এন্ড দ্যা গ্লোবাল ইকোনমি: ফ্রম রিক্স টু অপরচুনিটি শীর্ষক এ প্যানেল আলোচনায় নীতিনির্ধারক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং প্রযুক্তি খাতের নেতারা এআইয়ের প্রভাব, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে কাজের দক্ষতা বাড়ানোর কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও বৃহৎ পরিসরে অর্থনীতিতে রূপান্তরমূলক প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। নতুন প্রযুক্তি নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে তার সুফল পেতে সময় লাগে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সিএনএনের উপস্থাপক ও সংবাদদাতা রিচার্ড কোয়েস্ট। এতে আরও অংশ নেন ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম এবং এআই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নীতিবিষয়ক প্রধান জ্যাক ক্লার্ক।

এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনায় ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, প্রযুক্তিটির প্রাথমিক ব্যবহার থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু উন্নতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এখনো বৃহৎ পরিসরে এমন পরিবর্তন আসেনি, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে শুরুতে অনেক উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়। মানুষ দ্রুত সুফল পেতে চায়। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তির বিস্তার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে এর সমন্বয় এবং কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সময় লাগে। ফলে স্বল্প সময়ে প্রত্যাশিত সুফল না এলে হতাশা তৈরি হতে পারে।

জর্জিয়েভিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে প্রযুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে এগোনো প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুফল পেতে সময় লাগার বিষয়টি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নতুন প্রযুক্তি চালুর পরপরই সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবস্থার সমন্বয় করতে হয়। এসব প্রস্তুতি ছাড়া শুধু এআই ব্যবহারের ঘোষণা দিলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলোচনায় ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উত্থান-পতনের উদাহরণ সামনে আসে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ঘিরে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডটকম বুদ্‌বুদের পতনে অনেক কোম্পানি ব্যবসা হারায় এবং বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ইন্টারনেট প্রযুক্তি অর্থনীতি ও সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেন, কোনো প্রযুক্তির সফলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পৃথক কোম্পানির সাফল্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, ডটকম যুগে বড় ধরনের উত্থান ও পতন ঘটেছিল। অনেক কোম্পানি টিকে থাকতে পারেনি এবং অনেক বিনিয়োগকারী অর্থ হারিয়েছেন। কিন্তু ইন্টারনেট একটি অসাধারণ প্রযুক্তি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে এবং সমাজের ব্যাপক উপকার করেছে।

ম্যাকলেমের বক্তব্যে উঠে আসে, প্রযুক্তির বাজারে উত্থান-পতন ঘটলেও তার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় না। তবে প্রযুক্তির বিকাশ এমনভাবে পরিচালনা করা জরুরি, যাতে অপ্রয়োজনীয় বড় ধাক্কা এড়ানো যায়।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা, বিপুল বিনিয়োগ এবং দ্রুত মুনাফার আকাঙ্ক্ষা বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই এআইয়ের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও আর্থিক ঝুঁকির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এআইয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নীতিবিষয়ক প্রধান জ্যাক ক্লার্ক বলেন, প্রচলিত প্রযুক্তির সঙ্গে এআইয়ের একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন যন্ত্রপাতি, মাইক্রোস্কোপ কিংবা বড় কম্পিউটার কেনার পর সেগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু এআই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করার পরই কাজের ধরন বুঝে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে।

ক্লার্কের মতে, এ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশার চেয়েও আগে বাড়তে পারে। এআই শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে কাজ করে না; বরং বিভিন্ন ধরনের কাজ বুঝতে, সেগুলো সম্পন্ন করতে এবং মানুষের কর্মপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিকাশ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছে। আগামী বছরগুলোতে এসব পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, তা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিটিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং তাদের কাজের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পারছে, তার ওপর।

চ্যাটবট থেকে এআই এজেন্ট

এআইয়ের ব্যবহার আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এজেন্টভিত্তিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন জ্যাক ক্লার্ক। তিনি বলেন, অ্যানথ্রপিক এমন একটি সাধারণ প্রযুক্তি তৈরি করতে কাজ করছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। প্রযুক্তিটিকে সহজে কাজে লাগানো এবং এর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনও তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ চ্যাটবটের বাইরে গিয়ে এআই এজেন্টের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের সঙ্গে শুধু কথোপকথন করার পরিবর্তে এজেন্টভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড কোড’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাধারণ চ্যাটবট ইন্টারফেস থেকে এজেন্টভিত্তিক ইন্টারফেসে যাওয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রযুক্তি কর্মীদের কাজের গতি বাড়াতে, জটিল কাজের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সময় ও সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে এসব সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য এআইয়ের ফলাফল যাচাই, ভুল শনাক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের তদারকি নিশ্চিত করাও জরুরি।

এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির বিস্তারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমবাজারে পরিবর্তন, প্রযুক্তির সুবিধা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা। এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে কিছু কাজ দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে কর্মীদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। ফলে কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগ সবার সমান নয়। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির সুবিধা বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এআইয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিটি নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। আবার এর অপব্যবহার নতুন ধরনের সাইবার আক্রমণ ও প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনও বাড়বে।

এ কারণে এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারকে শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাজারের প্রতিযোগিতা এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা

এআই নিয়ে আইএমএফের আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রশাসনে এআইয়ের ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তৈরি পোশাকশিল্পে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ, উৎপাদন পরিকল্পনা, পণ্যের মান যাচাই, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার করা সম্ভব। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সময় বাঁচানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেও এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। গ্রাহকের লেনদেন বিশ্লেষণ, সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম শনাক্ত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নে প্রযুক্তিটি সহায়তা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা এবং আর্থিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিতে আবহাওয়া, মাটির অবস্থা, ফসলের রোগবালাই ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়ে সহায়ক বিশ্লেষণ, রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনায় এআই ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেখার উপকরণ তৈরি এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও বাড়তে পারে।

সরকারি প্রশাসনেও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ, নাগরিক সেবার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং অভিযোগের ধরন শনাক্ত করার মতো কাজে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে সেবার গতি বাড়ানো সম্ভব। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি, তথ্যের নিরাপত্তা এবং নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকলে এর সুফল সীমিত থেকে যেতে পারে। তাই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থায় ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, তথ্যের সুরক্ষা এবং উপযুক্ত নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুযোগ পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পেলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে পড়তে পারে।

শ্রমবাজারের পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। এআই কিছু কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, আবার নতুন ধরনের কাজ ও পেশার সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, পুনঃদক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থান নীতিতে সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রয়োজন।

এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু প্রযুক্তি খাত বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সুফল উৎপাদনশীলতা, উন্নত সেবা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আইএমএফের বার্ষিক সভার এ আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআইয়ের সম্ভাবনা যেমন ব্যাপক, তেমনি এর সুফল পেতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা, কার্যকর প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না; প্রতিষ্ঠান, কর্মী ও অর্থনীতির সঙ্গে এর কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সরকারি সেবার দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ না থাকলে এর সুফল সীমিত হতে পারে। বিশ্ব যখন এআইনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সময়মতো খাপ খাইয়ে নেওয়া। একইসঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কল্যাণের পরিপূরক হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির তাৎক্ষণিক ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়াই এআইয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।