ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানির মূল্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।

তবে আগস্টে রফতানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজারটির মোট আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শীর্ষে বাংলাদেশ, কমেছে বাজার হিস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও প্রথম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য।

তবে গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রফতানি আয় কমার পাশাপাশি বাজারে বাংলাদেশের অংশও কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশের পর ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে পাকিস্তান থেকে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং তুরস্ক থেকে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইইউ।

বাংলাদেশের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি হ্রাসের তুলনায় বেশি। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগস্টে বাড়লো রফতানি

বছরের প্রথম সাত মাসে দুর্বল অবস্থানের পর আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি—সুনির্দিষ্ট হিসাবে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রফতানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আগস্টে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। এ মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল  বলেন, আগস্টে ইইউর ডেনিম আমদানিতে যে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রফতানি আয়ে যে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আট মাস শেষে তা কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তুরস্ক বাজার হারালো, এগিয়েছে চীন ও মিসর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় বাজারটিতে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তুরস্ক থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থের হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি কমার পেছনে তুরস্কের রফতানি হ্রাস বড় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে মরক্কো থেকে আমদানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাকিস্তানের কমেছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং তিউনিসিয়ার ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এর বিপরীতে কয়েকটি দেশের ডেনিম রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিসরের রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

পরিমাণগত হিসাবে মিসরের রফতানি বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, চীনের ৩ কোটি ইউরো এবং ভিয়েতনামের ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রচলিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের কয়েকটি দেশ ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়লেও চীন, মিসর ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো রফতানি বাড়াতে পেরেছে। তবে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

বাজার ধরে রাখতে দ্রুত সরবরাহে গুরুত্ব

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আগস্টের প্রবৃদ্ধিও রফতানির সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করলেই এ বাজারে অবস্থান ধরে রাখা যাবে না।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের ক্রেতাদের নতুন ক্রয়াদেশ পেতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অল্প সময়ে নকশা ও পণ্যে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি সরবরাহকারী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রফতানির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও নমনীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ করা। আগস্টের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।




ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি : মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি : মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
ছবি সংগৃহীত।

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কিছুটা কমলেও, বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্রয়াদেশ ও আমদানির গতি পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু লক্ষণ দেখাচ্ছে, যদিও গত বছরের সার্বিক প্রান্তিকের তুলনায় তা এখনো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর তথ্যের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ (বিএভি) সংকলিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর মোট পোশাক আমদানির মূল্য ছিল ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরো, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮৩ শতাংশ কম। আমদানির মোট পরিমাণ ছিল ৩০৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার কেজি (২.৫৭ শতাংশ হ্রাস)। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় আমদানি মূল্য ১.২৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯.৬৫ ইউরোতে।

বিএভির হিসাব অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরুতে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রবণতা ধীরে ধীরে কমেছে এবং মাঝামাঝি সময়ে বাজারে কিছুটা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

এই পতনের পেছনে আগের বছরের তুলনামূলক উচ্চ আমদানির ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে ইইউর পোশাক আমদানি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছেছিল। একই বছরে ইইউর অর্থনীতি বেড়েছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের মুখে চীন ইউরোপের বাজারে বেশি পণ্য পাঠায়। ২০২৫ সালে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপীয় খুচরা বিক্রেতাদের হাতে আগের বছরের তুলনায় বেশি মজুত ছিল।


বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পতনের প্রধান কারণ রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়া নয়, বরং পোশাকের একক মূল্য হ্রাস। অর্থাৎ আগের তুলনায় কম দামে পোশাক রপ্তানি করায় মোট রপ্তানি আয় বেশি কমেছে। একই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে


এরপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করে। ২০২৬ সালে ইইউতে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ভোক্তাদের আস্থা ৪০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আগে থেকে জমে থাকা পণ্যের মজুতের কারণে খুচরা বিক্রেতারা নতুন পোশাকের ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে জানুয়ারির আমদানিতে, যা এক মাসেই আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে যায়।

তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বছরের শুরুর দিকে ক্রয়াদেশ কমানোর পর খুচরা বিক্রেতারা মজুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। জুন-আগস্ট সময়ে শরৎ ও শীত মৌসুমের পোশাক ইউরোপে পৌঁছানোর বিষয়টিও আমদানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। বসন্তে খুচরা বিক্রিও তুলনামূলক ভালো ছিল। মে মাসে ইইউর খুচরা বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল। এতে নতুন করে ক্রয়াদেশ দেওয়ার প্রবণতা জোরদার হয়। বছরের শুরুতে পিছিয়ে যাওয়া কিছু চালানও পরবর্তী সময়ে ইউরোপে পৌঁছায়।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ

ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বছরের শুরুতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি কমেছিল ১৯ শতাংশ। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আগস্ট পর্যন্ত বছরওয়ারি হিসাবে রপ্তানির পতন ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

ইইউর প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনই একমাত্র দেশ, যার রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ—দুটিই বেড়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯৭১ কোটি ইউরো হয়েছে। ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে চীনের অংশও ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে


২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য ছিল ১১৯৩ কোটি ইউরো। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩৫০ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরে রপ্তানি আয় কমেছে ১৫৭ কোটি ইউরো।

এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার কেজি হয়েছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পতনের প্রধান কারণ রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়া নয়, বরং পোশাকের একক মূল্য হ্রাস। অর্থাৎ আগের তুলনায় কম দামে পোশাক রপ্তানি করায় মোট রপ্তানি আয় বেশি কমেছে। একই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।

চীনের দখলদারিত্ব বাড়ছে ইউরোপের বাজারে

ইইউর প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনই একমাত্র দেশ, যার রপ্তানির মূল্য ও পরিমাণ—দুটিই বেড়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯৭১ কোটি ইউরো হয়েছে। ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে চীনের অংশও ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরো। দেশটির রপ্তানিতে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়াতে পারলেও প্রতি কেজির গড় রপ্তানিমূল্য ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমিয়েছে। দেশটির প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৮ ইউরো, যা প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

এ ছাড়া তুরস্ক, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার ইইউতে পোশাক রপ্তানির মূল্য প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতায় দেশভেদে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চীন বাজারের অংশ বাড়াচ্ছে, ভিয়েতনাম তুলনামূলক বেশি দামে পণ্য রপ্তানি করছে, আর বাংলাদেশকে রপ্তানি আয় ও বাজার হিস্যা, দুই ক্ষেত্রেই চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

২০২৭ সালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা, তবে ঝুঁকিও রয়েছে

ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৬ সালের বসন্তকালীন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ইইউর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চলতি বছরে ইইউর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে। তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এতে জ্বালানি, পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয় উঁচু পর্যায়ে থেকে যেতে পারে। জ্বালানির দাম বেশি থাকলে ২০২৭ সালে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

এ ছাড়া ইউরোপের ভোক্তা ব্যয় ও খুচরা বিক্রিও পোশাক আমদানির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় প্রায় দেড় হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দিন পোশাকের দোকানগুলোর আয় গড়ে ১৪ শতাংশ কমে যায়। বছরের শেষভাগের কেনাকাটার মৌসুমের ঠিক আগে এ ঘটনা খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

বড়দিনকেন্দ্রিক কেনাকাটা প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ক্রেতারা নতুন পোশাকের ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিতে পারেন। তেমনটি হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পুনরুদ্ধারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

নতুন বাণিজ্যনীতিতে বাড়বে প্রতিযোগিতা

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন জেনারালাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) বিধিমালা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে ভারত-ইইউ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ দুটি নীতিগত পরিবর্তন ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ভারত-ইইউ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি জিএসপি বিধিমালার পরিবর্তনও বাংলাদেশের বাজারসুবিধা ও প্রতিযোগিতার অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে আগামী দিনে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে মূল্য প্রতিযোগিতা, পণ্যের গুণগত মান এবং সরবরাহ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের তথ্য ইউরোপের পোশাক বাজারে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বছরের শুরুতে দুর্বল চাহিদা, উচ্চ মজুত ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আমদানিতে চাপ তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে ক্রয়াদেশ বাড়ার লক্ষণ দেখা গেলেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, একক মূল্য ও বাজার হিস্যায় পতন উদ্বেগের কারণ। এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চীনের শক্তিশালী অবস্থান, সম্ভাব্য দুর্বল বড়দিনের বিক্রি এবং ২০২৭ সালের নতুন বাণিজ্যনীতির প্রভাব।




ভরিতে সোনার দাম কমলো ২১৫৮ টাকা

ভরিতে সোনার দাম কমলো ২১৫৮ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শুক্রবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ২২ অক্টোবর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ১ হাজার ৬৯১ টাকা। তার আগে ১৩ অক্টোবর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমলো ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

এখন, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা।

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

এর আগে, ২২ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা।

এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।

সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
ছবি সংগৃহীত।

জরুরি নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ চলছে। ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য হামলাকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপিভিত্তিক আরও কিছু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কোনো সাইবার হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তবে কোনো ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহার করা হলেই সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সার্ভারে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ করা জরুরি। তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সংশোধন সম্ভব না হলে ফায়ারওয়াল ব্যবহার, অননুমোদিত সংযোগ সীমিত করা এবং প্রয়োজনে সার্ভার সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য ও অনলাইন সেবা ব্যবহারে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে ওয়েবসাইটটি কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি।