‘খুদে পায়ে স্বপ্নের জাদু’: জেলা মাতাল ফেনুয়া টি এস্টেট প্রাথমিক বিদ্যালয়

সবুজ মাঠজুড়ে তখন উচ্ছ্বাস আর করতালির ঢেউ। খুদে ফুটবলারদের দৌড়, পাস আর গোল উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতিহাস গড়েছে ফটিকছড়ির ফেনুয়া টি এস্টেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই স্কুলের বালক দল জিতেছে জেলা চ্যাম্পিয়নের মুকুট, আর বালিকা দল লড়াকু পারফরম্যান্সে অর্জন করেছে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম বন গবেষণা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় যেন গোলের ঝড় তোলে ফেনুয়ার বালকরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষ বাঁশখালীর পূর্ব বাহারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় তারা। মাঠে খুদে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী খেলা, নিখুঁত পাসিং আর দারুণ সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।
খেলার প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উৎসবের আমেজ। গ্যালারিতে থাকা শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা করতালি আর উল্লাসে উৎসাহ জুগিয়েছেন ছোট্ট খেলোয়াড়দের। গোলের পর গোল উদযাপনে যেন প্রাণ ফিরে পায় পুরো মাঠ।
অন্যদিকে, বালিকা দলও দেখিয়েছে অসাধারণ লড়াই। চন্দনাইশ উপজেলার হাছানদণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারলেও রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে তারা। হারলেও তাদের সাহসী পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম আর শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে। বালক দল চ্যাম্পিয়ন এবং বালিকা দল রানার্সআপ হওয়ায় আমরা সত্যিই গর্বিত। এটি শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো ফটিকছড়ির অর্জন।"
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রবও খুদে খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, "দুই দলই শুরু থেকেই অসাধারণ খেলেছে। বালক দল জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বালিকা দলও দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। এ অর্জন ফটিকছড়ির ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।"
চা-বাগানঘেরা নিরিবিলি জনপদ ফেনুয়া এখন আনন্দে মুখর। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় মহলের—সবার মুখে এখন একটাই আলোচনা, খুদে ফুটবলারদের এই গৌরবগাথা।
ফটিকছড়ি ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বেলাল উদ্দিন মুন্না বলেন, "সরকারি সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ছোট্ট খেলোয়াড়রাই একদিন জাতীয় পর্যায়েও ফটিকছড়ির নাম উজ্জ্বল করবে। কারণ স্বপ্ন দেখতে জানে যারা, তারাই একদিন বিজয়ের মুকুট পরে।"








