ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়িতে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও অপদস্থের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফটিকছড়িতে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও অপদস্থের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মারধর, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ফেসবুক লাইভে অপদস্থ করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর এলাকার ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী মো. হাসেম (৪০)। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন, শওকত ওসমান, আজগর সালেহী, জয়নাল আজহার, মাহিন হাসান, জামাল আজহার, মুহিব্বুল্লাহ আমিনি, খায়রুল বশর, আবু বক্কর, আব্দুর রহিম এবং মাওলানা আবু তালেবকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। সম্প্রতি একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভিডিও প্রকাশ করার জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা বাদীর দোকানে গিয়ে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাঁকে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়, যা তাঁর সামাজিক মর্যাদাহানির কারণ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন জোরপূর্বক ৩০০ টাকার একটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাদীর স্বাক্ষর নেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ করলে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বাদী। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, মানহানির প্রতিকার এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পের অপব্যবহার রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযুক্ত ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, “মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত তা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।”