‘উত্তর’ নামে উপজেলা, দক্ষিণে সদর! মানছেনা উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষ

নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, অথচ উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে দক্ষিণাংশে- এমন অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা। গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তারা ৭ দিনের মধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
শনিবার(৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ এ আল্টিমেটাম দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তবে উপজেলার নাম উত্তর হলেও যদি সদর দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপন করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বছরের পর বছর বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে প্রশাসন গণশুনানিও আয়োজন করে।
অভিযোগ করে তাঁরা আরোও বলেন, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অথচ দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভূজপুরকে সদর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
তাঁরা বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তনের প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং সোয়া এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আরও কঠোর আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








