‘উত্তর’ নামে উপজেলা, দক্ষিণে সদর! মানছেনা উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

‘উত্তর’ নামে উপজেলা, দক্ষিণে সদর! মানছেনা উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষ

‘উত্তর’ নামে উপজেলা, দক্ষিণে সদর! মানছেনা উত্তরের তিন ইউনিয়নের মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

নাম ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, অথচ উপজেলা সদর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে দক্ষিণাংশে- এমন অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা। গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তারা ৭ দিনের মধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দাবি করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

শনিবার(৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ এ আল্টিমেটাম দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তবে উপজেলার নাম উত্তর হলেও যদি সদর দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপন করা হয়, তাহলে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বছরের পর বছর বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে প্রশাসন গণশুনানিও আয়োজন করে।

অভিযোগ করে তাঁরা আরোও বলেন, গণশুনানির পরও দক্ষিণের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মতামত নেওয়া হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অথচ দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভূজপুরকে সদর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

তাঁরা বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তনের প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং সোয়া এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আরও কঠোর আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।