১৫ বছরেও বিচার মেলেনি বিএনপি নেতা আবদুল গনি হত্যার

ফটিকছড়িতে ২০১১ সালে প্রকাশ্যে খুন হওয়া দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি আবদুল গনি হত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্পদ দখল, হুমকি-ধমকি ও নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিলেও এখনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নিহত গনির স্ত্রী মেহেরা খাতুন বলেন, স্বামী হত্যার পর চার সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। আমার স্বামী বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। কিন্তু তাঁকে হত্যার পর দীর্ঘ দেড় দশকে দলের অনেকেই খোঁজ নেননি। আল্লাহর ওপর ভরসা করেই সন্তানদের বড় করেছি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ২০১১ সালের ১৪ মে প্রকাশ্য দিবালোকে আবদুল গনিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অধিকাংশই তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি আরও বলেন, মামলার বেশিরভাগ আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে তাঁদের সম্পদ দখলে নেয়। ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ ও পার্শ্ববর্তী পাতাছড়া এলাকায় থাকা কয়েকটি মূল্যবান জায়গা জবরদখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি ও তাঁর সন্তানরা।
প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন নিহত গনির ছেলে শাহীন। তিনি বলেন, আমার বাবা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। একদিকে ১৬ বছরেও পিতা হত্যার বিচার হয়নি, অন্যদিকে পিতার কষ্টার্জিত কোটি টাকার সম্পদ থেকেও বঞ্চিত। বর্তমানে হুমকি-ধমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দিন কাটছে আমাদের।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিচারের আশা জাগলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে মূল আসামিদের বাদ দেওয়ায় মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া দুঃখজনক। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তরুণ কিশোর দেব বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলার বাদী দীর্ঘদিন সাক্ষ্য না দেওয়ায় এর অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।








