সোনার ভরি ছাড়াল দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

সোনার ভরি ছাড়াল দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা

সোনার ভরি ছাড়াল দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়া‌নোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা পর্যন্ত বাড়া‌নো হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। যা সোমবার (২৪ আগস্ট) ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।




২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার
ছবি সংগৃহীত।

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬ হাজার ৪২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (২৩ আগস্ট) এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের ২২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ থেকে ২২ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরে একই সময়ে এসেছে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরু থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

ব্যাংকারদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ায় দেশে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




ঋণ জালিয়াতি: পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

ঋণ জালিয়াতি: পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত
ছবি সংগৃহীত।

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পদ্মা ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতলেব পাটোয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- এমএইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মমিনুর রহমান,  সোনালী ব্যাংকের এজিএম ও মমিনুরের মামা মো. অজিত উল্লাহ, পদ্মা ব্যাংক পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আব্দুল মতলেব পাটোয়ারী, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (এসভিপি) কর্নেলিয়াস গমেজ,সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ (অফিসার) মো. রাসেল মিয়া, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন (এফভিপি) এম আতিফ খালেদ, সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুল হাসান ভুঁইয়া,  সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমেদ এবং সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ (অফিসার) মো. কাওসার হোসেন।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। পরবর্তীতে অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন।  আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় মামলাটি অনুমোদন হয় বলে জানা গেছে। 




প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার

প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার
ছবি সংগৃহীত।


অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য এনার্জি সিকিউরিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার প্রত্যেকটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিতে কাজ করছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের কোনো কোনো এনার্জি খাতে ১৫ দিন বা ১৭ দিনের রিজার্ভও ছিল না। বর্তমানে সেই রিজার্ভ এক মাসে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এখন এটিকে তিন মাসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইজ দ্য প্রাইমারি কম্পোনেন্ট ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব দ্য ইকোনমি।’ তবে এ সমস্যা এক মাসে সমাধান হওয়ার নয়। সরকার যে পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, সেখান থেকে দ্রুততম সময়ে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট সমাধানে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় এফএসআরইউ নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অনশোরভিত্তিক গ্যাসের উৎস ও পাইপলাইন নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি এনার্জি সেক্টরে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দেশে বিনিয়োগ না হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও তৈরি হবে না।

তিনি বলেন, বিগত দিনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর ছিল। বিএনপির মৌলিক দর্শন হচ্ছে বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি। বেসরকারি খাত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি পরিচালনা করবে এবং সরকারের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা, সহায়তা ও সুবিধা দেওয়া।

‘এই কাজটি আমরা আপনাদের সবাইকে নিয়ে করার চেষ্টা করছি। পুরো বিষয়টাই আসলে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিনিয়োগ ছাড়া এখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই,’—বলেন তিনি।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ডিরেগুলেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু বলেন, শুধু নীতিমালা ঘোষণা করলেই হবে না, এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ডিরেগুলেশনের বিষয়গুলো সামনে আনতে সরকার কাজ করছে এবং ব্যবসায়ীরা কোথাও বাধাগ্রস্ত হলে তা জানানোর জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও তাদের সদস্যদের সমস্যার বিষয়ে অবস্থান নিতে হবে।

কাস্টমস, বন্দর ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে ব্যবসার খরচ কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বৈঠকেই প্রায় ৮ থেকে ১০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পণ্য আমদানির পর কার্গো ছাড় করতে কত সময় লাগবে, কাস্টমস ও বন্দর কোন কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ করবে; এসব বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের খেলাপি ঋণের সমস্যা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ পুনঃতফসিল ও ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য পুনঃতফসিলের মাধ্যমে সময় ও গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর যারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান, তারা ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারবেন।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ প্যাকেজ কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তারা কোনো ব্যাংকে বাধাগ্রস্ত হলে সরকারকে জানাতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে এমন অর্থ দেখিয়ে লাভ নেই, যা বাস্তবে আর কখনো ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ ধরনের সম্পদ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট পরিষ্কার করা এবং ব্যবসায়ীদের নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হবে না। যোগ্যতা ও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারীদেরই সুবিধা দেওয়া হবে।

‘আমরা ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরে কোনো রাজনৈতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবো না। যেখানে ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের সেনসিটিভিটি থাকবে, সেখানে রাজনীতি আসতে পারে না। এটা মার্কেট, আপনাকে মার্কেটকে সম্মান করতে হবে,’—বলেন তিনি।

কুটির শিল্প ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে মূলধারায় আনার উদ্যোগ

কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্রামের কামার-কুমার, তাঁতি, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের এতদিন অর্থনীতির মূলধারায় পর্যাপ্তভাবে আনা যায়নি।

এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

স্পোর্টস ও বিনোদন খাতকে অর্থনীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন আমির খসরু। তিনি বলেন, থিয়েটার, চলচ্চিত্র, সংগীত ও খেলাধুলার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। এসব খাত থেকে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলেও এতদিন এগুলোকে অর্থনীতির মূলধারায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

লন্ডনের থিয়েটার ডিস্ট্রিক্টের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি থিয়েটারকে কেন্দ্র করে টিকিট বিক্রি, দোকান, রেস্টুরেন্ট, আইনগত সেবা, ডিজাইনার শপ ও আর্ট গ্যালারিসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে। একইভাবে বাংলাদেশেও থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করা সম্ভব।

‘এগুলোও জিডিপির অংশ। আমরা এগুলোকে কোনো সময় মনিটাইজ করিনি। এখন এই জায়গাগুলোতে বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে চাই,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব মানুষ প্রচলিত অর্থনীতিতে মূলধন বা ঋণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সেমিনারের শুরুতে অতিথিদের আগমন ও নিবন্ধনের পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক এবং সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান।

সেমিনারে ২০২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির প্রভাব, দেশের বেসরকারি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতামত উঠে আসে।