সাতকানিয়ায় স্কুলের সভাপতি পদে আ’লীগঘনিষ্ঠ ইসহাককে বসানোর চেষ্টা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী এলাকায় ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইসহাক এমএ-কে বসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রভাবিত করে অর্থের বিনিময়ে তাঁর নাম সভাপতি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, মোহাম্মদ ইসহাক দীর্ঘদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে তাঁকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নদভী ও সাবেক এমপি মোতালেব মাষ্টারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ইসহাক দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার চেষ্টা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তাঁকে গভর্নিং বডির সভাপতি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিএনপি এক নেতকে প্রভাবিত করে ডিও লেটারে মোহাম্মদ ইসহাক এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি পদে বসানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয়রা জানান, আশির দশকের পর ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কেফায়েত উল্লাহ। ২০০৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠা অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, আপনার কাছে শুনলাম। প্রমাণ থাকলে দিন। যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইসহাক এমএ ও বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











