সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২৫
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২৫

সাতকানিয়ায় শিক্ষা সফরের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ২৫
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় ভোররাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কম পক্ষে ২৫ জন যাত্রী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কেরানীহাট সংলগ্ন মহাসড়কের নবনির্মিত রেললাইনের রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লার বিড়ির চং এলাকার বাসিন্দা সোহানা (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৫)।

স্থানীয়দের বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে একটি মাদ্রাসা শিক্ষাসফর বা বিশেষ কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি গন্তব্যে যাচ্ছিল। বাসটি কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ভোররাতে কক্সবাজার মুখি ছিল চারদিকের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা বাঁ বাঁচাও বলে চিৎকার করছেন। আমরা দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের বের করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার বলেন,ভোররাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ও আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”


তিনি আরও জানান, পুলিশ বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে অবস্থান নিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছে এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




ফটিকছড়িতে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারি ফের আটক

ফটিকছড়িতে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারি ফের আটক
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়িতে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া এক মাদক কারবারিকে চার ঘণ্টা পর আবারও আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে জাফতনগর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে যান ইয়াসিন। পরে রাত ৮টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। ইয়াসিন জাফতনগর এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদ ফকিরহাট-সংলগ্ন আমির আলী সওদাগর বাড়ির নিজের ঘর থেকে চার গ্যালন মদসহ ইয়াসিনকে আটক করেন জাফতনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অবস্থানকালে ইয়াসিন প্রস্রাব করার কথা বলে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় বাইরে বের হন। একপর্যায়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে জাফতনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) পরিমল চন্দ্র মল্লিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের হাত ফসকে আসামি পালিয়ে গেলেও অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও আটক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে থানায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।




পথ চেয়ে কেটেছে ৫৫ বছর, অবশেষে রহমতপুরে এমপি, উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধছেন সীমান্তের মানুষ

পথ চেয়ে কেটেছে ৫৫ বছর, অবশেষে রহমতপুরে এমপি, উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধছেন সীমান্তের মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। বদলেছে সময়, বদলেছে দেশের অনেক জনপদের চিত্র। কিন্তু চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সীমান্তবর্তী বাগানবাজার ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সামান্যই। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার সংকট নিয়ে বছরের পর বছর কাটছে তাঁদের। জনপ্রতিনিধিরাও অতীতে এ জনপদে যাননি বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো কোনো সংসদ সদস্যের পা পড়ল তাঁদের গ্রামে। তাই তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন শত শত মানুষ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বাগানবাজার ইউনিয়নের রহমতপুর, পানুয়া ও নয়দোলং এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও সীমান্ত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এদিন বাগানবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর পানুয়া ওয়ার্ডে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বিদ্যালয় ভবন উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য। পরে নবপ্রতিষ্ঠিত নয়দোলং মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘আমি এই এলাকায় এসে দেখেছি, এখানকার মানুষ কতটা কষ্টের মধ্যে বসবাস করছেন। এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেতু, সড়ক ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বাগানবাজার শান্তিনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ওলি উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য রহমতপুর, পানুয়া ও নয়দোলং গ্রামে এসেছেন। এত বছর ধরে আমরা নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্ষা এলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দুর্ভোগের শেষ থাকে না। জনপ্রতিনিধিরা অতীতে আমাদের এলাকার বাস্তব অবস্থা দেখার সুযোগ পাননি। সংসদ সদস্য নিজে এসে আমাদের কষ্ট দেখেছেন, সমস্যার কথা শুনেছেন এবং উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হোক। তাহলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে এই জনপদের মানুষ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব, বাগানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি একরামুল হক বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, বিএনপি নেতা ইউসুফ আলম মাসুদ, জসিম উদ্দিন, মহিউদ্দিন, আবুল খায়ের, আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




আমন্ত্রণ না পেয়ে ফটিকছড়ি ক্রীড়া সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতা মুন্নার

আমন্ত্রণ না পেয়ে ফটিকছড়ি ক্রীড়া সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদল নেতা মুন্নার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না করা এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে সংস্থাটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব প্রকৌশলী বেলাল উদ্দিন মুন্না।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্ট্যাটাসে বেলাল মুন্না অভিযোগ করেন, ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ফটিকছড়িতে নতুন কুঁড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি। কয়েক দিন আগে নতুন কুঁড়ি উপলক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি কিংবা অবহিত করা হয়নি। এমনকি এখন পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থার কোনো সভাও আহ্বান করা হয়নি।

মুন্না তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, গত বছর নতুন কুঁড়ি আয়োজনেও তাঁর যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রত্যাশা করেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গন একসঙ্গে চলতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়াপ্রেমী হতে হবে।

স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্রীড়া তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে না। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ঘোষিত ‘ক্রীড়া হবে পেশা’ স্লোগান বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মহিনউদ্দিন বলেন, "মুন্না ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম সদস্য। তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানো একটি ভুল হয়েছে। সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সাইফুল ইসলাম নামে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভুলবশত তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, "সদস্যসচিব বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে সহজেই সমাধান হয়ে যেত। হয়তো ভুলবশত তাঁকে জানানো হয়নি। সদস্যদের তো নিজেরা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার কথা। এ নিয়ে অভিমান করা ঠিক নয়। শিগগিরই ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হবে। নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে আশা করছি।"