শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ খুলবে ইরান, আলোচনার দরজাও উন্মুক্ত
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ খুলবে ইরান, আলোচনার দরজাও উন্মুক্ত

শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ খুলবে ইরান, আলোচনার দরজাও উন্মুক্ত
ছবি সংগৃহীত।

নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে ইরান। তবে আলোচনার দরজা কখনও বন্ধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরনা রবিবার এ খবর জানিয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।


তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রধান বার্তা ছিল হরমুজ নিয়ে তাদের অবস্থান। বৈঠকগুলোতে ইরানের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা ও তা সমর্থন করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আরাগচি জানান, ইরান কয়েকটি কূটনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনও এসব প্রস্তাবের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যগুলো পরস্পরবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ইরান সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে বলেও জানান আরাগচি। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একাধিক বৈঠক ও সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার পর তেহরানে ফিরে গেছেন। আরাগচিও বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।


ইরানের সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে দাবি করে আরাগচি বলেন, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বৈধ অধিকারভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।




আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন

আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পরিবহনে বিঘ্ন ঘটেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা থাকলেও আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে ফোনে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম আসেনি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সেই সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি বলে জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়াম আসার নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।


বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে টেলিফোনে জানান, আমরা বিমানবন্দরে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আমাদের জানান যে আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। ফলে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি। এটি নতুন করে সময় নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, তা তারা জানাতে পারেননি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধিকে ইমেইল করেছে এএনআই। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মার তীরে রূপপুর গ্রামে নির্মিত হচ্ছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এটমিক এনার্জি কর্পোরেশনের (রোসাটম) কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে দুটি তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিয়াক্টর ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, যা সম্মিলিতভাবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।

এর আগে রাশিয়ার রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা জ্বালানি সমাহার বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভারী রুশ কার্গো বিমানে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিল এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তর করা হয়েছিল।

সূত্র: এএনআই
 




মদিনার সড়কে ঝড়ে গেলো লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ

মদিনার সড়কে ঝড়ে গেলো লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের মদিনা-জেদ্দা রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লোহাগাড়ার মোহাম্মদ শতকত,তার বাড়ি লোহাগাড়া রশিদার পাড়ায়।

২৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব সময় রাত  ৮ টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত শওকের এলাকার এক ব্যাক্তি সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সূত্রে জানা যায় জীবিকার তাগিদে শওকত ১ বছর আগে সৌদিতে এসেছিলেন। সে গাড়ি নিয়ে চকলেট সেইলম্যান এর কাজে নিয়োজিত ছিলো। মদিনার বিভিন্ন দোকানে চকলেট বিক্রি করতো। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে বের হয়ে মদিনা জেদ্দা সড়কে আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান বলে তিনি জানিয়েছেন।

জানা যায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লাশটি উদ্ধার করেন। এবং গাড়ি গুলো থানা হেফাজতে নিয়ে যান।




বিশ্ব পর্যটন বিকাশে ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

বিশ্ব পর্যটন বিকাশে ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
ছবি সংগৃহীত।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটনের ভবিষ্যৎকে আরও উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, পর্যটন বিভিন্ন সংস্কৃতিকে সংযুক্ত করে এবং মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটনের পুনর্গঠন’-বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকে তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভ্রমণকারীদের গন্তব্য নির্বাচন, পর্যটন খাতের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।

এটি ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে শক্তিশালী করা, সেবার মান উন্নত করা এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য না থাকলে এআই পর্যটকদের কয়েকটি নির্দিষ্ট গন্তব্য ও প্ল্যাটফর্মের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত করতে পারে।

এতে অনেক সম্ভাবনাময় গন্তব্য পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, প্রযুক্তিকে অবশ্যই মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

পর্যটনকর্মী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং উদীয়মান পর্যটন গন্তব্যগুলোকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে।
তিনি ডিজিটাল দক্ষতায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তিতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং উদ্ভাবনের সুফল পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ ও স্থানগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বার্তায় অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, আসুন আমরা পর্যটনের জন্য এমন একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি, যা হবে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক। নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করি।