লামায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রিকশা চালক সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

লামায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রিকশা চালক সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন

লামায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে রিকশা চালক সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার "লামা রিকশা চালক সমবায় সমিতি লিঃ" (রেজিস্ট্রেশন নং: ০৪ বা/বান)-এর বৈধতা প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি এবং সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং সমিতিকেন্দ্রিক একটি চক্রের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ঘুষ দাবির অভিযোগ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) লামা বাজারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত কমিটিকে প্রশাসনিক বৈধতা দেওয়ার বিনিময়ে লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জনাব জাবেদ মীরজাদা মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করছেন। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় আইনানুগভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

জাল রসিদে চাঁদা ও অর্থ আত্মসাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সমবায় কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমিতির সভাপতি মো. বাদশা মিয়া, সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল উদ্দিন (পিতা: সাইফুল ইসলাম, কলেজ গেট এলাকা), সদস্য মাইনুদ্দিন, হাবিল মিয়া এবং মো. সুরুজ মিয়া পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে বিকল্প রসিদ বই ছাপিয়ে ভুয়া রসিদের মাধ্যমে সাধারণ রিকশাচালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা ও সঞ্চয় আদায় করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা না করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে আত্মসাৎ করছেন এবং সাধারণ সদস্যদের কোনো আর্থিক হিসাব দিচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. সাখাওয়াত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল হোসেনকে পদের বৈধতা দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।

নেতারা আরও জানান, সমবায় কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমিতি পরিচালনায় নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হয়রানি করে আসছেন। অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করায় সমিতি পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদার দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সাধারণ রিকশাচালকরা অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে সমিতি রক্ষা করতে বর্তমান বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার টাকা দাবি করার বিষয়টি সত্য নয়। তাঁদের মধ্যে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। বর্তমান কমিটি এজিএম-এর (বার্ষিক সাধারণ সভা) মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ সংস্কার করেছে। অভিযোগের বিষয়ে আমার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দেওয়া হয়নি।"




লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ সমাপনীতে উপকরণ ও সনদ বিতরণ

লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ সমাপনীতে উপকরণ ও সনদ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম। তিনি প্রান্তিক কৃষকদের হাতে সনদপত্র এবং কৃষি উপকরণ হিসেবে বীজ, স্প্রেয়ার মেশিন ও কম্পোস্ট সার তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সমতলের ন্যায় দুর্গম পাহাড়েও কৃষিবিপ্লব ঘটাতে হলে উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমাদের স্বপ্নের কৃষিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জোন উপঅধিনায়ক মেজর রাজু হোসেন এবং প্রশিক্ষক ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন বর্মণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




নাইক্ষ্যংছড়িতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত/অব্যাহিত

নাইক্ষ্যংছড়িতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত/অব্যাহিত
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে একই স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও সংশ্লিষ্টরা দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

অভিযোগকারী ও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তামিমা সুলতানা জানান, তাঁর মেয়ে তাঁরই কর্মস্থল বাইশারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এবং তার রোল ১। গত ১৯ আগস্ট একই স্কুলের শিক্ষক হাবিবুর রহমান মানিক স্কুল চলাকালে তাঁর মেয়েকে শ্রেণি কক্ষের পেছনের অংশে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করেন। মেয়ের কান্না ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার সত্যতা পান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তদন্ত কমিটি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের ৮-১০ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে অফিস কক্ষে ঘটনার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করে মুচলেকা দেন অভিযুক্ত শিক্ষক মানিক। পরবর্তী সময়ে সরেজমিন গেলে অন্য শিক্ষকেরাও এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

শিক্ষিকা তামিমা সুলতানা আরও বলেন, সামাজিক নানা টানাপোড়েনের কারণে তিনি দুশ্চিন্তায় থাকলেও বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গত ২ সেপ্টেম্বর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার রূপময় চাকমা বরাবর প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ খবর শুনে অভিযুক্ত শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সবার সামনে অপরাধ স্বীকার করা সত্ত্বেও এবং সহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বাদীর পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটিয়ে পরিবেশ আরও ঘোলাটে করে তোলেন। এতে পুরো বাইশারী জুড়ে অভিভাবক মহলে চরম আতঙ্ক ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের এমন বিকৃত আচরণের কারণে তাঁরা নিজেদের সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। যেখানে একজন শিক্ষক মায়ের উপস্থিতিতেই তাঁর নিজের মেয়ে নিরাপদ নয়, সেখানে অন্য অভিভাবকেরা কীভাবে নিশ্চিন্তে থাকবেন—এ প্রশ্ন তুলে তাঁরা ওই লম্পট শিক্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোবায়েদ নাহিদ নূর বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার। সব শিক্ষকের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান মানিক মুচলেকা দিয়েছেন এবং তা তিনি নিজ হাতে পড়েছেন। সুতরাং, এটি মিথ্যা বলার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রূপময় চাকমা বলেন, তিনি তদন্ত সম্পন্ন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশারীতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নাইক্ষ‍্যংছড়ির বাইশারীতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী বাজারে মো. আবুল কালাম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাইশারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শৌচাগারের ওপরের কাঠামো থেকে আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল কালাম উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাইশারী এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক এবং বাইশারী বাজারের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সোমবার ভোরের কোনো এক সময় এই ঘটনাটি ঘটে। ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়রা মসজিদের শৌচাগারের ওপরের কাঠামোতে আবুল কালামের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, নিহতের ছেলে সাইমুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের পাশাপাশি আবুল কালাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এগুলো প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এসআই শওকত জামিল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও আর্থিক ঋণের বিষয়টি জানা গেছে। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।