রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ ভেঙ্গে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। এরপর একাই দলকে টানেন সালমান আলি আগা। পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই নিয়ে যান তিনি। কিন্তু শেষদিকের রোমাঞ্চে ১১ রানে জিতে যায় বাংলাদেশ। তাতেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজও জিতলেন মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জেতার নজিরও গড়ল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে একে অপরের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।  

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১৭ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে রিজওয়ানকে (৪) ফেরান তাসকিন।

চাপে পড়া দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে প্রতিরোধটা ভালোভাবে করতে পারেননি তারা। ৩৯ বলে ২৯ রানে ঘোরি ও ৪৫ বলে ৩৪ রানে সামাদ আউট হন।

একশর আগেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাদ মাসুদ। অভিষিক্ত এই ব্যাটার দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। তবে ৩৮ রানে তাকে থামিয়েছেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাতেই ৭৯ রানে থামে সালমান-মাসুদ।

ক্রিজে নেমে দেখে-শুনেই খেলছিলেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার প্রয়াস চালান তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। বাঁহাতি এই ব্যাটারকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন ফাহিম।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট নেন তিনি।

এর আগে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে শাহীন আফ্রিদিকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সাইফ। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৫ বলে ৩৬ রান।

দুর্দান্ত শুরুর পর সাইফের মতো ইনিংস বড় করতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। হারিস রউফের করা বলে আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ রান।

এদিকে অভিষেক সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। পরের ফিফটি করতে খেলেছেন ৪৯ বল। সবমিলিয়ে ৯৮ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। আবরারের কিছুটা খাটো লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে শাহিন আফ্রিদির হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১০৭ বলে ১০৭ রান। ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কার মার ছিল।

চতুর্থ উইকেটে দারুণ জুটি উপহার দেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। এসময় দুজন মিলে তোলেন ৬৮ রান। তাতেই বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় দল। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন দাস। আর পরের উইকেটে নেমে রানের দেখা পাননি রিশাদ হোসেন। প্রথম বলেই বোল্ড হন তিনি।

এরপর আফিফকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৪৮ রানে। আর ৫ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার ও শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন একটি করে উইকেট।




লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!

লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!
ছবি সংগৃহীত।

মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি থেকে ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বের রাজদণ্ড আবারও ফিরে এলো ইউরোপের টিকিটাকায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রেকর্ডবুক ও কোটি ভক্তের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফুটবলের নতুন রাজা এখন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর, গতি আর কৌশলের এক চরম প্রদর্শনী শেষে লিওনেল স্কালোনির ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরল ‘লা রোহা’। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। বাংলাদেশ সময় গত রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ‘মহাযুদ্ধ’ কোটি দর্শককে টেলিভিশনের পর্দায় আটকে রেখেছিল। তবে মাঠের ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশ যুবারাই। লুই দে লা ফুয়েন্তের এই দলটির নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কাছে ভাঙল আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।


মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারার মেলা ও ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা:
নিউ ইয়র্কের আকাশ গত দুই দিনের আবহাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে আজ ছিল পুরোপুরি রৌদ্রময়। বিকেল তিনটায় নিউ জার্সির এই ছাদহীন স্টেডিয়ামে যখন মেসি-ইয়ামালরা মুখোমুখি হন, তখন লাখো দর্শককে রোদে পুড়েই উপভোগ করতে হয়েছে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। বাংলাদেশ মুদ্রায় কয়েক লাখ টাকার সর্বনিম্ন টিকিটের এই ম্যাচের গ্যালারির প্রতিটি আসন ছিল পরিপূর্ণ। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামমুখী লাখো মানুষের স্রোতে আর্জেন্টিনার সমর্থক কিছুটা বেশি চোখে পড়লেও স্প্যানিশ দর্শকরাও কম যাননি। টাইমস স্কয়ারের মতো স্টেডিয়ামের চারপাশ মাতিয়ে রেখেছিলেন তারা। ফুটবলের এই মহোৎসবে বিনোদনের রঙ ছড়াতে হলিউড মেগাস্টার টম ক্রুজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ফুটবলকে বৈশ্বিক বার্তার মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আর বিরতির জমকালো হাফটাইম শো-তে মঞ্চ কাঁপান পপ তারকা ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। ম্যাচ শুরুর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড। এবারের সফল আয়োজনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মেয়াদকালেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফেরানোর জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ‘দারুণ প্রস্তাব’ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। যদিও ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী ২০৩৮ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুযোগ নেই। ম্যাচ নিয়ে নিজের ভবিষ্যদ্বাণীতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন,” কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ট্রাম্পের সেই বাজি টিকল না।


প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট, লিসান্দ্রোর চোট:
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল পজেশন আর ৩১৩টি নিখুঁত পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছে মাত্র ১৫৫টি পাস। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বলে পা ছোঁয়াতে পেরেছিলেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে নিতে পারতেন লামিনে ইয়ামাল। ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বল ইয়ামাল নিয়ন্ত্রণে নিলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় গোল লাইনের সামনে থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। ৭ মিনিটে সিমন দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে রুখে দেন। ৩৯ মিনিটে ফাবিয়ানের পাস থেকে ওয়ারজাবালের জোরালো শট নিচে নেমে এসে রুখে দেন এমি মার্টিনেজ। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দুই মিনিট পরেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা, তার বদলে নামেন ওতামেন্দি।


দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনির ছক ও ওতামেন্দির প্রতিরোধ:
দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে পারেদেসকে নামালেও শুরুতেই তিনি রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের দারুণ ট্যাকল নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচায় আর্জেন্টিনাকে। ৬২ মিনিটে স্পেন পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে মাঠে নামালে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ইয়ামালের বাঁ পায়ের চমৎকার ক্রস থেকে তোরেসের নিচু হেড লুফে নেন মার্টিনেজ। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড নথিভুক্ত করার পর থেকে প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে পুরো ৯০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে না পারার অবাঞ্ছিত রেকর্ড গড়ে। এমি মার্টিনেজ একে একে স্পেনের ১০টি শট রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। তবে ইনজুরি টাইমের ৩ মিনিটে কুবার্সিকে বেপরোয়া ট্যাকল করে চেলসি তারকা এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও।


অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের সেই ‘সোনার হরিণ’ গোল:
১০ জনের আর্জেন্টিনাকে পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে চেপে ধরে স্পেন। ৯৬ মিনিটে ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করে মেরিনোর শট মার্টিনেজ ব্লক করলে ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে জড়ালেও ভিএআরে ওতামেন্দির ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্থের মাত্র ২৭ সেকেন্ডে পেদ্রো পোরোর ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের সহায়তায় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস আলতো ছোঁয়ায় বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন। ২০১৪ সালে জার্মানির গোৎসের পর তোরেসই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করলেন।
 




ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি সংগৃহীত।

নকআউটে বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে, মিশর, তারপর সুইজারল্যান্ড। প্রত্যেকেই নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালেও তারা পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ বলে কথা নেই। শেষ দিকে আবার বাজিমাত করল তারা। ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের আক্ষেপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা


ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।


৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫ মিনিটে তাদের জালে বল ঠেলে দিলেন। ইল্যান্ড এগিয়ে গেল।

ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন।পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।

আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।

এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।

৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস  ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।নকআউটে বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে, মিশর, তারপর সুইজারল্যান্ড। প্রত্যেকেই নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালেও তারা পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ বলে কথা নেই। শেষ দিকে আবার বাজিমাত করল তারা। ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের আক্ষেপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা


ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।


৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫ মিনিটে তাদের জালে বল ঠেলে দিলেন। ইল্যান্ড এগিয়ে গেল।

ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন।পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।

আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।

এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।

৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস  ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।




সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি সংগৃহীত।


অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের দেখা পেল। হুলিয়ান আলভারেজের দর্শনীয় গোলে ২-১ এ এগিয়ে গেল তারা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ দূর থেকে তার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।
এর আগে আর্জেন্টিনা দশম মিনিটে এগিয়ে যায়। নবম মিনিটে কর্নার পায় তারা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। এম্বোলো ডান দিক থেকে একটি থ্রু বল পেয়ে গোলের দিকে ছুটে যান। তিনি বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। এনদোয়ে দ্রুত গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লক করে তাকে আটকে দেন। তবে গোল হলেও সেটি হতো না। কারণ এর আগেই লাইন্সম্যান এম্বোলোর অফসাইডের কারণে পতাকা তুলেছিলেন।

 

সুইজারল্যান্ড আবার আক্রমণে ওঠে। বাঁ দিক থেকে বল ভেসে আসে বক্সের ভেতরে। এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজ ডান দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন


সুইস মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি মার্টিনেজের সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খেলেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই গতিময় শটটি রুখে দেন।

লাল কার্ড পাওয়ার ঠিক আগে এনদোয়ে বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলেন। ফিরতি পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনদোয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। কোণাকুনি শটে বলটি দূরের পোস্টে গিয়ে জড়ায়। সুইজারল্যান্ড দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

৬৭ মিনিটে গোল করে সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরায়। ৫ মিনিট পর তারা ১০ জনের দলে পরিণত হলো। ৭২ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রাথমিকভাবে এম্বোলোকে ফাউল করার কারণে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ফরোয়ার্ড। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকে।


জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজ একটি ক্রস রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে স্লাইড করেন। গোলমুখের সামনে বল উড়ে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। ডানদিকে কাট করে তিনি দূরের পোস্ট দিয়ে শট নেন। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বল বাঁক খেয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জটলার ভেতরে বল পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক কিক কোবেল সহজেই আটকে দেন।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা লিড নিলেও শেষ অর্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনাকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোর ১-১। তাতে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে।

৯৩ মিনিটে আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান আলমাদা। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার শট কোবেল রুখে দেন। দুই মিনিট পর আবারও আলমাদার দুর্দান্ত একটি শট। বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও সাইডনেটে লাগে।

দুই মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রুলারকে টেনে ধরে বুকড হন আলমাদা। পরের মিনিটে আকাঞ্জিকে ফাউল করে শাস্তি পান লাউতারো। সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।