রামুতে চলন্ত ট্রাক্টর থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

রামুতে চলন্ত ট্রাক্টর থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

রামুতে চলন্ত ট্রাক্টর থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে চলন্ত ট্রাক্টরে উঠতে গিয়ে চাকার নিচে পড়ে মোহাম্মদ আসিফ (২৩) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের মৌলভীর কাটা আল গিফারী মাদ্রাসা সংলগ্ন বিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আসিফ স্থানীয় মৌলভীর কাটা গ্রামের মোহাম্মদ তোফাইলের ছেলে। তিনি কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বিলে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষের কাজ চলছিল। এসময় চলন্ত ট্রাক্টরটিতে উঠতে গিয়ে পা পিছলে এর ভেতরে পড়ে যান আসিফ। এতে ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশের আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রামু থানার গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মুহাম্মদ জুয়েল চৌধুরী জানান, ট্রাক্টরটিতে দুইজন চালক কাজ করছিলেন। এক চালক বিরতিতে যাওয়ার সময় আসিফ চলন্ত অবস্থায় ট্রাক্টরটিতে উঠতে গেলে পা পিছলে চাকার ফাঁকে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

নিহতের বাবা তোফাইল আহমদ বলেন, "ঘটনাটি আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। চলন্ত অবস্থায় উঠতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কারও কোনো দায় নেই।"

উপজেলা জামায়াতের স্থানীয় নেতা মুহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ আসিফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। কয়েকমাস আগেই তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
 




রুমায় বিহারের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ হেডম্যানের বিরুদ্ধে

রুমায় বিহারের নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ হেডম্যানের বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত।

জমাবন্দির দুই নথিতে জমির মালিকানা ও সীমানায় অমিল, নদীর চরে বীজ বপন করছেন ১১ নারী।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় একটি বৌদ্ধবিহারের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ৩৫৩ নম্বর কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই মারমার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমির সীমানার সঙ্গে হেডম্যানের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত জমাবন্দির তথ্যের মিল নেই। এর পরও বিহারের নাম সামনে এনে সাঙ্গু নদীর চরে জমিটি দখলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থানীয় ১১ নারীকে দিয়ে বীজ বপনের কাজও শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অন্যদিকে হেডম্যান শৈচিং থুই মারমার দাবি, বিরোধপূর্ণ নদীর চরটি সরকারি খাসজমি। পাড়াবাসীর সম্মতিতে বিহারের নামে জায়গাটি দখলে নেওয়া হয়েছে। তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমিটি তাঁদের প্রয়াত মংসিংগ্য মারমার মালিকানাধীন ছিল। তাঁর ছেলে ওয়ারিশদার পিপলু মারমা বলেন, বাবার মৃত্যুর পরপরই জমিটি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, জীবদ্দশায় তাঁর বাবা বিভিন্ন স্থানে জমি দান করলেও বিরোধপূর্ণ এই জমি বিহারের নামে দান করেননি। বাবার মৃত্যুর প্রায় দুই মাসের মধ্যে হেডম্যান জমিটি দখলের উদ্যোগ নেন।

প্রতিবেদকের হাতে আসা দুটি জমাবন্দি-সংক্রান্ত নথিতে জমির পরিমাণ, মালিকের নাম ও চৌহদ্দির বিবরণে ভিন্নতা দেখা যায়।

একটি নথিতে ৩৫৩ নম্বর কোলাদি মৌজার ২৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে তৃতীয় শ্রেণির পাঁচ একর পাহাড়ি জমির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে মালিক হিসেবে মংসিংগ্য মারমার নাম রয়েছে। নথির চৌহদ্দিতে উত্তরে শীল পাহাড়, দক্ষিণে দাব্রো ক্ষ্যং ঝিরি, পূর্বে পাহাড় এবং পশ্চিমে শঙ্খ নদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য নথিতে একই মৌজার তৃতীয় শ্রেণির এক একর পাহাড়ি জমির মালিক হিসেবে আগাওয়াইং ছা ভিক্ষুর নাম উল্লেখ রয়েছে। এ নথির চৌহদ্দিতে উত্তরে পলিকা ঝিরি, দক্ষিণে পাহাড়, পূর্বে প্রুথোয়াই অং এবং পশ্চিমে পাহাড়ের কথা বলা হয়েছে।

দুটি নথির জমির পরিমাণ, মালিকের নাম ও চৌহদ্দির বিবরণে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাঙ্গু নদীর চরে থাকা বিরোধপূর্ণ জমিটির সঙ্গে বিহারের নামে দেখানো নথির সীমানার মিল নেই। তাঁদের অভিযোগ, এসব অসংগতি উপেক্ষা করে বিহারের নাম ব্যবহার করে জমিটি দখলের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর চরে বিরোধপূর্ণ জমিতে কয়েকজন নারী বীজ বপন করছেন। স্থানীয় ১১ নারী দলবদ্ধভাবে সেখানে কৃষিকাজে অংশ নেন। তবে তাঁদের অনেকেই জমিটির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে জানেন না বলে জানান।

কৃষিকাজে অংশ নেওয়া সিংনুপ্রু বলেন, “জায়গাটি কার, তা আমরা জানি না। রাতে বিহার থেকে মাইকে বলা হয়, ভোরে জমিতে বীজ বপন করতে হবে। তাই ভিক্ষুর কথায় বীজ বপন করতে এসেছি। মূল ঘটনা কী, তা আমরা কিছুই জানি না।”

পলিকা বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ইন্দ্রিয় ভিক্ষু বলেন, “জমিতে চাষাবাদ বা বীজ লাগানোর কোনো নির্দেশনা আমি দিইনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে দখল না করে পাড়াবাসী জমির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে যেতে পারত। এত বড় ঘটনা না ঘтаলেও হেডম্যান পারতেন।”

বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জমাবন্দির নথিতে পলিকা পাড়া বৌদ্ধবিহারের নামের পরিবর্তে আগাওয়াইং ছা ভিক্ষুর নাম উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিহার পরিচালনা কমিটি, হেডম্যান ও পাড়াবাসীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পলিকা পাড়া বৌদ্ধবিহারের সভাপতি উবামং মারমা বলেন, “আমি আগে বিহার পরিচালনা কমিটিতে ছিলাম না। জায়গাটি দখলের জন্য হেডম্যান আমাকে দুই দিনের জন্য সভাপতি বানান। আমাকে বাদী করে হেডম্যান নিজেই অভিযোগ দাখিল করেন। স্বাক্ষর দিতে বলায় দিয়েছি। আমি অশিক্ষিত, কাগজে কী লেখা আছে, তা পড়তে জানি না।”

পলিকা পাড়া গ্রামের প্রধান দুংখি অং মারমা বলেন, “হেডম্যান নিজেই লিখে আমাকে একটি কাগজ দিয়েছেন। সভাপতি না থাকায় তাঁর পক্ষে স্বাক্ষর করেছি। জায়গাটি খাস নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন, তা হেডম্যান বলতে পারবেন।”

ভুক্তভোগী পিপলু মারমা অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবা জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন জায়গায় জমি দান করেছেন। কিন্তু এই জমির চৌহদ্দি আলাদা। দখলের পক্ষে যে কাগজ দেখানো হচ্ছে, সেটির চৌহদ্দিও আলাদা। বাবা জীবিত থাকতে কেউ এ জমির মালিকানা দাবি করেননি। তাঁর মৃত্যুর দুই মাসের মধ্যেই হেডম্যান নিজে দখলের উদ্যোগ নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “কখনো বলা হচ্ছে এটি অন্যের জমি, কখনো খাসজমি, আবার কখনো বিহারের জমি। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন দাবি তুলে আমার জমি দখল করা হয়েছে। এমনকি বর্গাচাষিকেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পাড়াবাসী ও বিহারের নাম ব্যবহার করে জমিটি দখলে নেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে ৩৫৩ নম্বর কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈচিং থুই মারমা বলেন, “তাঁদের জমির চৌহদ্দি আলাদা, ভিক্ষুর জমির চৌহদ্দিও আলাদা। কিন্তু সাঙ্গু নদীর যে চর জেগেছে, সেটি খাসজমি। এ কারণে পাড়াবাসীর সম্মতিতে বিহারের নামে জায়গাটি দখলে নেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে বিহারের জন্য জায়গা রেখে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, কারও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করা হয়নি। জমিটির সীমানা নদী পর্যন্ত হওয়ায় নদীর জেগে ওঠা চরকে খাসজমি হিসেবে বিবেচনা করে পাড়াবাসীর সম্মতিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মংমিন মারমা বলেন, “জায়গাটি কারও চৌহদ্দির ভেতরে পড়ে না বলে তিনি চিহ্নিত করেছেন।”

জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমজাদ হোসেন বলেন, “পাঁচ একর জমি দখল নিয়ে পান্তলা পাড়ার একজন শিক্ষক কোলাদি মৌজার হেডম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে অনুযায়ী এগোচ্ছি।”

জমিটির প্রকৃত মালিকানা, নদীর চরটির আইনগত অবস্থান, জমাবন্দির দুই নথির সীমানাগত পার্থক্য এবং বিহারের নামে জমি ব্যবহারের বৈধতা—সবকিছুই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন সরেজমিনে জমি পরিমাপ, নথি যাচাই ও উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে। এতে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের পাশাপাশি বিরোধেরও আইনানুগ নিষ্পত্তি হবে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে গভীর রাতে আগুনে পুড়ল দুই দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নাইক্ষ্যংছড়িতে গভীর রাতে আগুনে পুড়ল দুই দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মালামালসহ দুটি দোকান। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি বাসাবাড়িও। তবে অলৌকিকভাবে ও স্থানীয়দের চেষ্টায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে একটি দুগ্ধ খামার।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের আদর্শগ্রাম এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির একজন কর্মচারী। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় পৌনে ৪টার দিকে (৩টা ৪০ মিনিট) হঠাৎ তাঁর ঘুম ভাঙে। তখনই আগুন দেখতে পেয়ে তিনি প্রথম ফোন দেন তাঁর বাসার পার্শ্ববর্তী দোকানদার গোলাম কিবরিয়াকে। ওই দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা পার্শ্ববর্তী হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

ততক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরই মধ্যে গোলাম কিবরিয়ার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, আগুনে গোলাম কিবরিয়ার মুদির দোকান ও হামিদ খলিফার কাপড়ের দোকানের সব মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। একই সাথে বাসার দুই ভাড়াটে সাহাবুদ্দিন ও চুই চা মং মারমার বাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল সংলগ্ন স্থানীয় খামারি মোহাম্মদ ইসলামের গরুর একটি বড় খামার লোকজনের সহযোগিতায় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পায়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার গোলাম কিবরিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, "আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আমার দোকানের তালা খোলেন। আমার আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"

অন্যদিকে হামিদ খলিফা জানান, তাঁর আনুমানিক ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাসাবাড়ির দুই বাসিন্দাও জানান যে তাঁদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।




রুমার দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’

রুমার দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’
ছবি সংগৃহীত।

১৪ পাড়ার মানুষের জন্য চাঁদের গাড়ি প্রদান, সহজ হবে রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহন।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। দুর্গম এলাকার ১৪টি পাড়ার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি রোগী স্থানান্তরের সুবিধার্থে ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁদের গাড়ি প্রদান করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।

888791487_3332888706919059_2299780218215266615_n
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া ও হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা যোগাযোগব্যবস্থার সংকটে ভুগছিলেন। এসব এলাকায় বসবাসরত বম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।

বিশেষ করে রুমা থেকে মুননুয়াম পাড়া রুটে নিয়মিত কোনো যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হতো। অসুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে চাঁদের গাড়িটি প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটি প্রাথমিকভাবে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি আশপাশের আরও ১০টি পাড়ার বাসিন্দারাও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহনসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে মোট ১৪টি পাড়ার মানুষ এ উদ্যোগের সুফল পাবেন।

গাড়িটি চালু হলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, গাড়িটির সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে। এর ফলে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ পরিবহনসেবার সুফল পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট নিরসনে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গাড়িটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ের মানুষের যাতায়াত সংকট নিরসনের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।