রাঙামাটি বন বিভাগে ওমর ফারুক স্বাধীনের রাম রাজত্ব বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের চাঁদাবাজি
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

রাঙামাটি বন বিভাগে ওমর ফারুক স্বাধীনের রাম রাজত্ব বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের চাঁদাবাজি

রাঙামাটি বন বিভাগে ওমর ফারুক স্বাধীনের রাম রাজত্ব বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের চাঁদাবাজি
ছবি সংগৃহীত।


পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, বদলি-বাণিজ্যর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় বনকর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের প্রশ্রয়ে   ওমর ফারুক স্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগে রাম রাজত্ব কায়েম করেছে।
ওমর ফারুক স্বাধীন রাঙামাটি বন বিভাগে যোগদানের পর থেকেই সাবেক বরকল স্টেশন কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. মামুন মিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুনীতি করে চলছে । কাপ্তাই রেঞ্জের মাদার ট্রি-সেগুন গাছ পাচার, কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের পাহাড়ে অনিয়ন্ত্রিত জুম চাষ, সেগুন গাছ পাচার, বনের অভ্যন্তরে রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নতুন নতুন পাহাড়ি পাড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । জানা গেছে মামুন মিয়া রাঙামাটি জুড়ে বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নামে চাঁদা আদায় করে থাকে। তিনি রাঙামাটিতে কাঠপাচারকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। 
এছাড়ও, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নাম ভাঙ্গি মোটা অংকের টাকা আদয়া করেন ওমর ফারুক স্বাধীন। কয়েকজন ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ড নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি স্বিকার করেছেন।  
এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে নতুন যোগদানকারী ডেপুটি রেঞ্জার জাহিদ প্রামাণিককে রাইখিয়ংমুখ চেক স্টেশন ও কাপ্তাই রেঞ্জের দায়িত্ব  দেওয়ার গুরতর উঠেছে। তাকে পদায়নের জন্য ওমর ফারুক স্বাধীন বিভাগীয় কর্মকর্তার নামে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা। কাপ্তাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে নেওয়া দুটি রাস্তার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রকল্প দুটি বন্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি; ভবিষ্যতে যাতে ওই সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে আর কোনো রাস্তা নির্মাণ করা না হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অকেজো থাকা সোলার ফেন্সিং তাঁর উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের সাক্ষী হিসেবে জীবতলী আর্মির সদস্যদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি কাপ্তাইয়ে থাকা অবস্থায় কোনো গাছ কাটা যায়নি। বরং সংরক্ষিত বন রক্ষায় যেসব প্রকল্প পরিবেশ ও বনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেগুলো বন্ধ করেছি। দুটি রাস্তার প্রকল্প বন্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর রাস্তা নির্মাণ না হয়, সে ব্যবস্থাও করেছি। দীর্ঘদিন অকেজো থাকা সোলার ফেন্সিং চালু করেছি।’
 




লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন
ছবি সংগৃহীত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী লন্ডনে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দায়িত্বশীল একাধিক সাংবাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে তিনি বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নেন তিনি।

সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল— তিন মাধ্যমেই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল খালিদীর। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ডিজিটাল বাংলাদেশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশেও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজকে ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে লন্ডনে তার মৃত্যুর কারণ, বয়স এবং শেষ সময়ের অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।




জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরা আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ব্যাপক যাত্রীদের চাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে এলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান মন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।

আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হয়েছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীতে যোগদান করেন।




বাবা-মাকে হারানো এতিম পাঁচ কন্যার পাশে প্রধানমন্ত্রী

বাবা-মাকে হারানো এতিম পাঁচ কন্যার পাশে প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

‘এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবেদনটি দেখে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগম বাড়িতে যান।

প্রতিনিধি দলটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং এতিম পাঁচ কন্যার সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে এই পরিবারের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তার পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, এমন অসহায় ও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েটে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও ঋণের বোঝার চাপে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম। প্রথমে ফরিদা বেগমের মৃত্যু হয়। এর এক মাসের ব্যবধানে নিজ বসতঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার স্বামী আবুল কালাম আজাদের মরদেহ।