ভূজপুরের নারায়ণহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফরের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল জনতা

ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদের স্বপদে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার (২ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ ও বাজার এলাকায় প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হতে থাকেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নারায়ণহাট বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
এ সময় আবু জাফর মাহমুদের রোষানলে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী, নিরীহ বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মামলা-হামলা করে ঘরবাড়িছাড়া করা ইসলামবিদ্বেষী ও বামপন্থী আবু জাফরকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। জনমতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা প্রতিহত করা হবে এবং এর দায়ভার তাঁর পেছনে কাজ করা অসাধু ব্যক্তিদেরই বহন করতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সিকদার, কৃষকদল সভাপতি মাস্টার আবুল বশর, সহসভাপতি আবুল বশর, সিনিয়র সহসভাপতি পেয়ারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেন, ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, প্রভাব খাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সোমবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।








