ভুজপুর থানায় শতাধিক অবৈধ করাতকল: লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে রমরমা ব্যবসা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

ভুজপুর থানায় শতাধিক অবৈধ করাতকল: লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে রমরমা ব্যবসা

ভুজপুর থানায় শতাধিক অবৈধ করাতকল: লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে রমরমা ব্যবসা
ছবি সংগৃহীত।

ভুজপুর থানার বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক অবৈধ করাতকল (স’মিল) গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব করাতকলের কোনোটিরই নেই সরকারি লাইসেন্স, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব অবৈধ করাতকল চললেও কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। ফলে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ ও চেরাইয়ের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকার অধিকাংশ করাতকলেরই কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।

স্থানীয় সূত্রমতে, করাতকল মালিকেরা এসব লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের তোয়াক্কা করেন না। আবার কোনো কোনো মালিকের সঙ্গে থানা-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোপন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ করাতকল দেদার চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর তো বিগত কয়েক বছর যাবৎ ভুজপুরে আসেওনি। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও এর দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কায়সার হামিদের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম উত্তর পরিবেশ অধিদপ্তরের ফটিকছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস জানান, ফটিকছড়ি থেকে আজ পর্যন্ত কোনো করাতকল ছাড়পত্রের জন্য আবেদনই করেনি। তিনি বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো করাতকলের ছাড়পত্রের আবেদন পাইনি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, খুব দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

স্থানীয় সূত্র ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলায় বর্তমানে শতাধিক অবৈধ করাতকল সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ অনুমোদনহীন হওয়ায় পরিবেশ ও বন আইন লঙ্ঘন করে চলছে এসব কার্যক্রম। ফটিকছড়ির করাতকল ব্যবসা এখন কেবল একটি অবৈধ শিল্প নয়, বরং বনসম্পদ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসনিক দুর্বলতা ও তদারকির অভাবে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে এমন থাকলেও কার্যকর কোনো সমাধান আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় দ্রুত সমন্বিত অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।