বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলছে হালদা লুট!

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ‘ফিশারিজ হেরিটেজ’ হালদা নদী রক্ষার নামে চলছে অর্ধকোটি টাকার প্রকল্প। অথচ সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালেই হালদার বুক চিরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যে নদীকে রক্ষার কথা বলে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সেই নদীকেই ক্ষতবিক্ষত করে উত্তোলিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে নদীতীর সংরক্ষণ কাজে।
রোববার(১৪ জুন) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের হাড়িঘাটা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নদীতীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান। প্রকল্প এলাকা থেকে অল্প দূরত্বে হালদা নদীর ভেতরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই বালু সরাসরি প্রকল্প এলাকায় ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ চোখে পড়েনি। অথচ হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন বহু আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতীতে একই অপরাধে অভিযান, জব্দ ও জরিমানার নজির থাকলেও এখন প্রকাশ্যে ড্রেজার চললেও সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য শামশুল আলম ওরফে চিনিয়া মেম্বারের তত্ত্বাবধানে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই বালুই কিনে নিচ্ছে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগের বিষয়ে শামশুল আলম দাবি করেন, বালু উত্তোলনের স্থান আমার নিজস্ব জমি। তবে নদীর ভেতরে ড্রেজার পরিচালনার বৈধতা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কোনো নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
প্রকল্পের ঠিকাদার ও মেসার্স রিলায়েন্স কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা স্থানীয় চিনিয়া মেম্বারের( শামশুল আলম) কাছ থেকে বালু কিনে নিচ্ছি। তারা কোথা থেকে বালু আনছে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।
পরিবেশবিদদের দাবী, প্রকল্পের টিকাদারের এমন বক্তব্য দায়িত্ব এড়ানোর শামিল। সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর বৈধ উৎস নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমরা অবগত নই।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের কয়েকশ গজ দূরে দিনের পর দিন ড্রেজার চললেও যদি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা না জানেন, তাহলে প্রকল্প তদারকি আদৌ কীভাবে হচ্ছে?
হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, নদী রক্ষার নামে নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে মা মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে, জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে এবং ডলফিনের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








