বিদ্যুতের তারে ঝরল দুই কৃষকের প্রাণ, পথে বসার আশঙ্কায় ইউনুচের পরিবার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুতের তারে ঝরল দুই কৃষকের প্রাণ, পথে বসার আশঙ্কায় ইউনুচের পরিবার

বিদ্যুতের তারে ঝরল দুই কৃষকের প্রাণ, পথে বসার আশঙ্কায় ইউনুচের পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার। বিশেষ করে নিহত মো. ইউনুচের (৩৫) মৃত্যুতে তার তিন ছোট সন্তানসহ দুটি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। পাশাপাশি নিহতদের স্বজনরা প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

গত রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের একটি কৃষিজমিতে ধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান কৃষিশ্রমিক মো. ইউনুচ ও মো. হাসেম (৫০)। সোমবার রাত ৯টায় ভূজপুরের ফকিরহাটের মিরেরখিল জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত ইউনুচ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দৈনিক মজুরির আয়ে চলত তার স্ত্রী ও তিন সন্তান-নাদিয়া আক্তার (৭), ইমাম হোসেন (৫) এবং নাদিহা (২)-এর সংসার। তবে তার দায়িত্ব শুধু নিজের পরিবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুই বছর আগে বড় ভাই ইদ্রিসের মৃত্যুর পর ভাইয়ের তিন সন্তান ও স্ত্রীকেও নিজের আয়ে সহায়তা করে আসছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এখন দুটি পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, নিহত হাসেমের পরিবারেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যদিও পরিবারের অন্য উপার্জনক্ষম সদস্য থাকায় তারা অন্তত জীবিকার একটি অবলম্বন ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে ইউনুচের পরিবারের সামনে এখন জীবিকা, সন্তানদের লেখাপড়া ও নিত্যদিনের ব্যয় মেটানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির তার ছিঁড়ে কৃষিজমির পানিতে পড়ে ছিল। খুঁটির গাই তার না থাকায় পুরো জমির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে। সেই পানিতে নেমে কাজ করার সময় মুহূর্তেই বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারান দুই কৃষক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও উদ্ধারকাজে বিলম্ব হয়। পরে স্থানীয়রাই মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (ফটিকছড়ি) জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আশিক মাহমুদ সুমন বলেন, গাই তার তুলে ফেলার কারণে বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটিও একই কারণে হয়েছে। ঘটনার আগে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় গাই তার পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার মেরামত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ক্রস আর্ম অপসারণ করে নতুন ক্রস আর্ম স্থাপনের কাজ চলছে।

ঘটনার পর ফটিকছড়ি থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলাও হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত দুই পরিবারের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারকে অন্তত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অবকাঠামো দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। 

ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান এএইচএম শাহজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিবারগুলোর জন্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, তারা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পায়। 

 




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।