বিতর্ক নিয়েই আসছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

বিতর্ক নিয়েই আসছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা

বিতর্ক নিয়েই আসছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অন্যতম বৃহৎ উপজেলা ফটিকছড়ি। বিস্তীর্ণ জনপদ, পাহাড়-সমতল মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের খসড়া প্রস্তাবে ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’ গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। খুব শিগগিরই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রি-নিকার সভায় নতুন উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস ফটিকছড়িতে। বর্তমানে উপজেলাটিতে রয়েছে দুটি থানা, দুটি পৌরসভা এবং ১৮টি ইউনিয়ন। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও জনসংখ্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে আরও কার্যকর।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই বিভাজন কোনো রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বিচ্ছিন্নতার ফল নয়; বরং এটি প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনসেবার মানোন্নয়নের অংশ। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। শুরুতে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সঙ্গে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এ নিয়ে বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। সংগঠনটির দাবি, এসব এলাকা নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নতুন উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে, তা নিয়েও রয়েছে মতপার্থক্য। এক পক্ষ চায় সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভাকে যুক্ত করে ভুজপুর এলাকায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক। অন্য পক্ষের দাবি, সদর দপ্তর হওয়া উচিত নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা মৌজায়। এ বিষয়ে একাধিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সচেতন মহল চায়, এমন স্থানে সদর দপ্তর হওয়া প্রয়োজন, যেখান থেকে সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নাজিরহাটে হওয়ায় দূরবর্তী এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন। এই হাসপাতালের সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগ করেন পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দারা।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। নব্বইয়ের দশকের আগে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। পরে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে কয়েকটি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে আছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভাতেই নতুন উপজেলা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার প্রস্তাব বর্তমানে নিকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিকারের অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন উপজেলা। তখন দেশে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫ থেকে বেড়ে হবে ৪৯৬।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।