বাঁশখালীতে দৃশ্যমান হচ্ছে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের উপহারের ঘর

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপকূলীয় লাখ লাখ মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম শেষে এবার সবার দৃষ্টি গৃহহারা পরিবারগুলোর একটি আশ্রয়ের দিকে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে গৃহনির্মাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিধ্বস্ত ঘর নির্মাণে নগদ অর্থ সহায়তাসহ বহুমুখী কার্যক্রম।
বাঁশখালীতে বন্যায় গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য সাধ্যানুযায়ী তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও মাওলানা গাজী ইয়াকুবের উপহারের ঘরগুলো আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বন্যার প্রথম থেকেই উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রমে শরিক হতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন এই আলেম।
ত্রাণ তৎপরতা শেষে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেখা দেয় বন্যায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর মাথার ওপর একটি চালের। বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা এবং সরকারিভাবে ১০০টি ঘর প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী রবিবার সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত এসব ঘরের চাবি ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মাওলানা শায়খ আহমাদুল্লাহর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বাঁশখালীতে ৩০০টি ঘর তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর তালিকা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৭০ জন গৃহহারা মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মাইজভাণ্ডার দরবার ও ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়েছে গৃহনির্মাণসামগ্রী ও নগদ টাকা।
তবে সবার সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাঝে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে মাওলানা গাজী ইয়াকুব ও তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টা।
ইতোমধ্যে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষে মাওলানা গাজী ইয়াকুবের ২০টি উপহারের ঘর তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বাঁশখালীবাসীর প্রতি মাওলানা ইয়াকুব ও তাঁর সংগঠনের উপহার। এ কাজে নিয়মিত সময় দিয়ে সহায়তা করছেন বাঁশখালীর বন্যায় আলোচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগীতশিল্পী আজগর হোসাইন ফাহিম ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ওসমান গণি। দুই-এক দিনের মধ্যেই এসব ঘরের কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবী আজগর হোসাইন ফাহিম জানান, বাঁশখালীতে বন্যার শুরু থেকেই আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থীরা যেভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তাকওয়া ফাউন্ডেশন শুরু থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পর এখন ঘর নির্মাণের কাজ করছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ঘরের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস জানান, তাকওয়া ফাউন্ডেশন বাহারছড়া ইউনিয়নে ৭টি ঘর নির্মাণ করছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হলে অসহায় পরিবারগুলো সেখানে বসবাস করতে পারবে। এজন্য তিনি তাকওয়া ফাউন্ডেশন ও মাওলানা গাজী ইয়াকুবকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, বাঁশখালীতে বন্যায় ১০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাঁশখালীর মানুষ।











