ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো: পিআইবির মহাপরিচালক

বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) আয়োজনে ও তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজারে এই কর্মশালার সমাপনী পর্ব সম্পন্ন হয়।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর। সমগ্র কর্মশালাটি সমন্বয় করেন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।
গত ৩০ আগস্ট শুরু হওয়া এই নিবিড় কর্মশালায় কক্সবাজারে কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ দেন শিক্ষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. জামিল খান, পিআইবির প্রোগ্রাম অফিসার আবু সুফিয়ান ও ফ্যাক্টচেকার রিদওয়ানুল ইসলাম।
কর্মশালায় সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতার নানা কৌশল ও ব্যবহারিক দিক শেখানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ও এআই টুলস: প্রম্পট লিখনের কৌশল, নোটবুক এলএলএম, গুগল ট্রেন্ডস এবং এআই ব্যবহার করে সংবাদভিত্তিক ছবি ও ভিডিও তৈরি।
সাইবার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা: গণমাধ্যম সাক্ষরতা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা এবং ডেটা ব্যাকআপ ও রিকভারি।
তথ্য যাচাই ও নৈতিকতা: ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও যাচাইয়ের আধুনিক মাধ্যম, ডিপফেক শনাক্তকরণ এবং এআই ব্যবহারে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন সংবাদ পরিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ করছে, তেমনি গুজবের বিস্তারও বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বজায় রাখতে ফ্যাক্ট চেকিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষকে গুম করার আগে সংবাদ গুম করা হতো। অন্তত সেটাও এখন রক্ষা পেয়েছে। সরকার ও রাষ্ট্রকে ব্যর্থ দেখাতে সরকারবিরোধীরা বিভিন্নভাবে এআইয়ের মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এআই দিয়ে যেমন অপপ্রচার ছড়ানো যায়, তেমনি ভালো কাজও করা যায়। প্রযুক্তির এই যুগে একদিন হয়তো প্রিন্ট মিডিয়া থাকবে না, তবে গণমাধ্যম ও এআই থাকবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় গণমাধ্যমের ওপর মানুষ ভরসা হারিয়ে ফেলেছিল; তাই আবারও সাংবাদিকদের সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। সত্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে আবারও মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।











