ফটিকছড়ির রাঙাপানি চা-বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ, মারামারিতে আহত-১০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার রাঙ্গাপানি চা-বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাগানের একটি মেশিন অন্য বাগানে সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলার মুখে পড়েন বাগানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও ব্যবস্থাপকসহ অন্তত ১০ জন। এ সময় শ্রমিকরা বাগানের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং জিএমের গাড়িসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বৃহস্পতিবার ( ৯ এপ্রিল) সকালে কারখানার সামনে শ্রমিক ও উর্ধ্বতনদের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বাগানের কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি বাগান কর্তৃপক্ষ কারখানার মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের দাবি, কারখানা বন্ধ থাকলেও মেশিন ও সরঞ্জাম অন্যত্র নেওয়া যাবে না এবং পাতা বাগানেই প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে সকালে শ্রমিকেরা বাগান কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। সভার সময় বাগানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কাজী মো. ইরফান উল্লাহ ও ব্যবস্থাপক উৎপল বিশ্বাস গাড়ি নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদেরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পঞ্চায়েত নেতারা ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়।
বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নব কুমার ত্রিপুরা বলেন, রাঙ্গাপানি চা-বাগান আমাদের ভাতের যোগানদাতা। কিন্তু মালিকপক্ষ সুকৌশলে বাগানের মেশিনারি অন্য একটি বাগানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিই। এ সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এলে তারা শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ এক মাসের সময় নিয়ে আমাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
বাগানের ব্যবস্থাপক উৎপল বিশ্বাস বলেন, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝির অবসান করবো।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চ্ন্দ্র দে জানান, বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ ও মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে কেউ এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ দেয়নি। দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








