ফটিকছড়িতে সড়কে পড়ে রইল চামড়া

ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজারে এবার ঈদের চামড়ার বাজারে দেখা গেছে চরম স্থবিরতা। ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারদের অনুপস্থিতিতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কে ফেলে চলে গেছেন মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। রাতভর অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা না মেলায় পুরো বাজারজুড়ে তৈরি হয়েছে হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার সকালে বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও দোকানের সামনে সারি সারি গরুর চামড়া পড়ে আছে। কোথাও স্তূপ করে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। রাতের আঁধারে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে আসতে থাকেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা আশা করেছিলেন, রাতে ট্যানারি প্রতিনিধি কিংবা বড় পাইকাররা এসে চামড়া কিনবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো বড় ক্রেতার দেখা মেলেনি।
গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে আনা ব্যবসায়ী মো. বেলাল বলেন, "অনেক কষ্ট করে চামড়া সংগ্রহ করেছি। ভেবেছিলাম ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বড় কোনো ব্যবসায়ীই নেই।"
আরেক ব্যবসায়ী মো. আজম বলেন, "সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে কেউ সেই দাম মানছে না। আমরা স্থানীয়ভাবে বেশি দামে চামড়া কিনেছি, এখন বিক্রি করতে না পেরে বিপদে পড়েছি।"
জানা যায়, প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এর সঙ্গে পরিবহন, লবণ ও শ্রমিক খরচ যোগ হয়ে ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
চামড়া ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, "চামড়া বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে ফেলে রেখে গেছে।"
চামড়া শিল্পে দীর্ঘদিনের সংকট, ট্যানারিগুলোর বকেয়া অর্থ পরিশোধে জটিলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতি বছরই প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ফলে এবার অনেক কওমি মাদ্রাসাও চামড়া সংগ্রহ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাজার তদারকি ও সংগ্রহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে প্রতিবছর কোরবানির পর একইভাবে সড়কে পড়ে থাকবে হাজার হাজার টাকার চামড়া।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "সড়কে ফেলে যাওয়া অবিক্রিত চামড়াগুলো দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনা করা হবে।"








