ফটিকছড়িতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ফটিকছড়িতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়িতে মামলার পর মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে  সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী নামে এক ভুক্তভোগী। মঙ্গলবার রাতে সদরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। ভুক্তভোগী মোবারক উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ছাদেকনগর গ্রামের মো. গণি চৌধুরীর ছেলে। পেশায় তিনি উপজেলা সদরের একজন ব্যবসায়ী।

অভিযুক্ত ডা. মো. হাসান শহীদ উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের ফরেষ্টার বাড়ির মনির আহম্মদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গমনকারীদের সরকারিভাবে শারিরিক ফিটনেস সনদ দিতেন। তবে বর্তমানে তিনি অবসরে।

লিখিত বক্তব্যে মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ। আমার প্রবাসী ভাইটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখেন। ভাই মোহাম্মদ নুর নবী চোধুরী ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর রেজিষ্ট্রারীকৃত ২৬৯৩ নং কবলামুলে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং মৌজার বিএস ১০৩৩ এবং ১০৩৪ নং দাগের আন্দরে সুনিদিৃষ্ট চৌহদ্দিমতে ১৪ শতক নাল জমি কেনেন। দখলমতে তিনি চতুর্পাশে পাকা প্রাচীর দিয়ে চাষাবাদ করতে থাকেন। পরবর্তীতে ৩৬৬৫/২০১৩-১৪ ইং নামজারি মামলামুলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এ টি এম আজহারুল ইসলামের আদেশে বিএস ৫৮২৩ নং খতিয়ান চুড়ান্ত হয়। কিন্তু বিক্রেতা হাসান শহীদ গত ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ উপজেলা সহকারি কমিশনারের বরাবর সৃজিত সেই খতিয়ানটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে বাতিলের আবেদন করেন। সুকৌশলে ক্ষমতার দাপট, অফিসকে ম্যানেজ ও অর্থের বিনিময়ে তিনি খতিয়ানটি রাতারাতি বাতিল করান। পরবর্তীতে আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে বাতিলের আদেশটি পূণ:বিবেচনা করতে সহকারি কমিশনারে আবেদন করি। সেখানে বিষয়টিতে গড়িমসি করলে পরবর্তীতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে রিভিশন মামলা ১৯১/২০১৬ দায়ের করি। অবশেষে সেখানেও শুনানী শেষে আমাদের পক্ষে রায় আসে।

মোবারক হোসেন বলেন, এরিমধ্যে বছর তিন আগে রেজিষ্ট্রারীকৃত ২৬৯৩ নং কবলাটি জাল ও ফেরবি উল্লেখ করে মামলা ও জুলুমবাজ হাসান শহীদ দলিলটি বাতিলের মামলা করেন। মামলাটিতেও আমাদের পক্ষে রায় হয়। কিন্তু দুর্লোভী প্রতারক আমাদের একের পর এক মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানী করে নি:স্ব করে চলেছেন।

মোবারক হোসেনের আক্ষেপ, গত ১২ এপ্রিল আমাদের উক্ত জমির সীমানা প্রাচীর রক্ষণাবেক্ষনে কয়েকজন শ্রমিক কাজে গেলে মামলাবাজ হাসান শহীদ তাঁর পেটোয়া লোকজন দিয়ে কাজে বাঁধা দেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের লোকজনের কথাকাটাকাটি ও বাগ্বিতন্ডা হলে হাসান শহীদ আমাকে আসামী করে চট্টগ্রামের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সিআর ৩২৩/২০২৬ মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

মোবারকের মতে ‘আমার ব্যাবসায়িক ও ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করতে তিনি কেয়ারটেকারকে সামনে রেখে মিথ্যা মারামারি ও চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি থানা পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সুষ্ঠু তদন্তে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান।’

প্রবাসে থাকা জমির মালিক মোহাম্মদ নুর নবী চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘একটি মানুষকে কতভাবে হয়রানী করলে দু:সহ যন্ত্রনা লাগে। তিনি মামলা-মামলায় আমার সব নি;স্ব করেছেন। আমরা প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ দেশের কল্যাণে ব্যয় করি। আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার প্রকৃত জমির দখল বুঝিয়ে দিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এটুকুই আশা করি।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম বলেন, ‘এটি মূলত জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা। মামলার বিষয়টি জেনেছি তবে এখনো আদালতের কপি হাতে আসেনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে নির্দেশনা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’  

অভিযুক্ত ডা. মো. হাসান শহীদ বলেন, ‘আমি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। আর প্রতিপক্ষ একজন শট্ ও ভূমিদস্যু। কৌশলে ত্রুটিপূর্ণ দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে আমার নিজস্ব সম্পত্তি দখল ও আত্মসাতের চেষ্টা করছেন তারা। তাই আমি আইনী প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছি। আদালতই এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে মোবারকের একাধিক স্বজন, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।