ফটিকছড়িতে বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ ঘিরে বালুখালী বিট ও হালদা ভ্যালী চা বাগান মুখোমুখি
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ ঘিরে বালুখালী বিট ও হালদা ভ্যালী চা বাগান মুখোমুখি

ফটিকছড়িতে বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ ঘিরে বালুখালী বিট ও হালদা ভ্যালী চা বাগান মুখোমুখি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বালুখালী এলাকায় বিরোধপূর্ণ বনভূমিতে বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগের বালুখালী বিট কার্যালয় ও হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ তুলেছে।

শনিবার(১৩ জুন) দুপুরে নারায়ণহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বন বিভাগ ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বালুখালী বিটের আওতাধীন একটি বনভূমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের মধ্যেই সম্প্রতি বন বিভাগের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে আপত্তি জানায় হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ। শনিবার পুনরায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালাতে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 
হালদা ভ্যালী চা বাগানের ব্যবস্থাপক এম এ কাসেম বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি চা বাগানের লিজকৃত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। জমিটির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি। বরং আমাদের লিজকৃত জায়গায় নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকাবস্থায় সেখানে বৃক্ষরোপণের যৌক্তিকতা নেই।

অন্যদিকে বালুখালী বিট কর্মকর্তা নবীন কুমার ধর বলেন, জমিটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমি। হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ একদিকে জমিটিকে তাদের লিজকৃত বলে দাবি করছে, অন্যদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে আনরেজিস্টার্ড দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার কথাও বলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে নতুন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চা ও বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বালুখালী এলাকার এ বনভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অতীতেও একাধিকবার এ নিয়ে উত্তেজনা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় বন বিভাগের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও বিট কর্মকর্তা দাবি করেন, অভিযান চালিয়ে কিছু গাছ উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।