ফটিকছড়িতে বনভূমিতে বৃক্ষরোপণ ঘিরে বালুখালী বিট ও হালদা ভ্যালী চা বাগান মুখোমুখি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বালুখালী এলাকায় বিরোধপূর্ণ বনভূমিতে বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগের বালুখালী বিট কার্যালয় ও হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ তুলেছে।
শনিবার(১৩ জুন) দুপুরে নারায়ণহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বন বিভাগ ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বালুখালী বিটের আওতাধীন একটি বনভূমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের মধ্যেই সম্প্রতি বন বিভাগের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে আপত্তি জানায় হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ। শনিবার পুনরায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালাতে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হালদা ভ্যালী চা বাগানের ব্যবস্থাপক এম এ কাসেম বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি চা বাগানের লিজকৃত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। জমিটির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন অবস্থায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি। বরং আমাদের লিজকৃত জায়গায় নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকাবস্থায় সেখানে বৃক্ষরোপণের যৌক্তিকতা নেই।
অন্যদিকে বালুখালী বিট কর্মকর্তা নবীন কুমার ধর বলেন, জমিটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমি। হালদা ভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ একদিকে জমিটিকে তাদের লিজকৃত বলে দাবি করছে, অন্যদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে আনরেজিস্টার্ড দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার কথাও বলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে নতুন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চা ও বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বালুখালী এলাকার এ বনভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অতীতেও একাধিকবার এ নিয়ে উত্তেজনা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই এলাকায় বিপুল পরিমাণ গাছ কাটার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় বন বিভাগের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও বিট কর্মকর্তা দাবি করেন, অভিযান চালিয়ে কিছু গাছ উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।







