ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মাথার খুলি উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মাথার খুলি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মাথার খুলি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন টিলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে উদ্ধার হয়েছে খণ্ডিত মরদেহ ও দেহবিহীন মাথার খুলি। একই এলাকার দুটি টিলায় প্রায় এক কিলোমিটার ব্যবধানে এসব উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের একটি টিলার খাদ থেকে মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত শনিবার একই ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার আরেকটি টিলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কয়েকদিন অভিযান চালিয়েও তখন বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া খুলিটি আগের সেই মরদেহের অংশ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা শিরু আক্তার দুপুরে ছাগল খুঁজতে গিয়ে টিলার খাদে সাদা রঙের একটি বস্তু দেখতে পান। কাছে গিয়ে সেটি মানুষের মাথার খুলি বলে বুঝতে পারেন। পরে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পাশের দোকানদার আজমকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

শিরু আক্তার বলেন, “ছাগল খুঁজতে গিয়ে নিচে সাদা রঙের মাথার মতো কিছু দেখতে পাই। কাছে গিয়ে বুঝতে পারি এটি মানুষের মাথার খুলি। ভয় পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি।

স্থানীয় দোকানদার আজম বলেন, শিরু খুব ভয় পাওয়া অবস্থায় এসে বিষয়টি জানায়। পরে আমি পুলিশকে খবর দিই।

ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খুলিটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেহবিহীন একটি মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েকদিন আগে একই এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহের অংশ। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে, গত শনিবার বিকেলে পাইন্দং ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার একটি টিলা থেকে এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন শিশু বনমোরগ শিকারে গিয়ে টিলার ঢালে মরদেহটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
 




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।