প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ

প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন উত্তরের তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একইসাথে তারা বিরোধীতাকারী হারুয়ালছড়ি ও ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কড়া সমালোচনাও করেন।

সম্প্রতি সরকার ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত এই উপজেলা সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় করার একটি আবেদনের প্রতিবাদে সোচ্চার হন নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবী, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনা না করে জনমতকে উপেক্ষা করে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এর দায় দুই জনপ্রনিধিনির নিতে হবে। 

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নারায়ণহাট জমজম ক্যাফে নামক একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবক মো. শফিউল আলম। এসময় স্থানীয় রাজনীতিদ, সমাজসেবক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে মো. শফিউল আলম উল্লেখ করেন, ‘উপজেলাকে বিভক্ত পূর্বক প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন এবং সদর দপ্তরের স্থান গণশুনানীতে জনসাধারণের উত্থাপিত মতামতের আলোকে মাঠ প্রশাসনের গত ২০২৩ সালের ১১ মের প্রতিবেদনটি যথাযথ। কিন্তু সদ্য প্রস্তাবটি দুই চেয়ারম্যানের অযৌক্তি দাবীর কারণে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষ সুফল বঞ্চিত হবেন।’ 

তিনি দাবী করেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরের তিন ইউনিয়নবাসীর বৃহত্তর দাবী এটি। অন্তত দুই লক্ষাধিক জনসাধারণের সেবা, সহজ বন্টন এবং এতদাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস হিসেবে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়টি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রি-নিকার সভায় অনুমোদিত হয়। কিন্তু এরপর থেকেই কিছু স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তি হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রশাসন পাঠানো গণশুনানির প্রতিবেদন, সর্বসম্মত রেজুলেশন, সাংসদের চাহিদাপত্র গোপন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনকে অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যায্যতা যাচাই না করে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার ক্যাচমেট এলাকা সর্বস্তরের সুবিধাজনক স্থানের বিপরীতে পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করার ‘কৌশলী’ অপপ্রয়াশ চালাচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরোও বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মদপুষ্ট সাবেক সাংসদ নজিবুল বশরের দোসর ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট এমন অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এই খবর পেয়ে উত্তর ফটিকছড়ির বাগান বাজার, দাঁতমারা, নারায়নহাট ইউনিয়নের জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের আগে প্রশাসন পাঠানো প্রতিবেদন গোপন করে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অযৌক্তিক একটি প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে পশ্চিম ভুজপুর মৌজার মধ্যে ‘উত্তর উপজেলা’র সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করেন। যেখানে বর্তমান উপজেলা সদরের দুরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার তৎস্থলে দেখানো হয়েছে ১৪ কিলোমিটার। যা মিথ্যা, বানোয়ারট ও মনগড়া।

লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় আইনজীবী রবিউল হাসান তানজিম বলেন, ‘যে মৌজায় ‘উত্তর উপজেলা’র দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি থেকে বর্তমান সদরের দুরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। যা অযাচিত ও অযৌক্তিক। অন্যদিকে, উত্তর ফটিকছড়ির বাগান বাজারের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। ফলে এমনটি হলে এতাদ্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের আশা ও স্বপ্ন ভঙ্গের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রস্তাবে উত্তরাঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারী সেবা সহজ প্রাপ্যতাতো দূরের কথা বরং স্থানীয় পর্যায়ে তা সৃষ্টি করবে বঞ্চনার নতুন এক ইতিহাস। যদি অপ্রত্যাশিতভাবে এরূপ কোন স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর হয় তা স্পষ্টতই সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. ইমরান খাঁন, মো. এনামুল হক, নাছির উদ্দীন চৌধুরী, আবু জাফর, নুর আবছার, মুন্সি মোহাম্মদ ইউনুস, সাহেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।