পাঠ ভুলের অভিযোগে শিশু হাফেজকে নির্মম নির্যাতন,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

পাঠ ভুলের অভিযোগে শিশু হাফেজকে নির্মম নির্যাতন,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

পাঠ ভুলের অভিযোগে শিশু হাফেজকে নির্মম নির্যাতন,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে বায়তুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক শিশু হাফেজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ফটিকা এলাকায় অবস্থিত বায়তুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হোসেন বিন তৈয়ব (১৫) গত ১৫ জুন সকালে নিয়মিত পাঠদানের সময় প্রধান শিক্ষক হাফেজ কামালের কাছে সবক (পাঠ) শুনাচ্ছিল। এ সময় পাঠে সামান্য ভুল হওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি,ওই দিনের ঘটনার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। পরবর্তী দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন স্থানে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয় এবং কয়েকটি স্থানে রক্তক্ষরণ হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হোসেন বিন তৈয়ব জানায়, পাঠে ভুল হওয়ায় তাকে কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বারবার মারধর করা হয়। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং নিজের নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে মাদ্রাসা ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে।

শিক্ষার্থীর মা কোহিনুর সুলতানা বলেন, ছেলে প্রথমে ফোন করে মারধরের কথা জানালে আমি তাকে সান্ত্বনা দিই। কিন্তু পরদিনও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে কোনোভাবে ছেলে বাড়িতে ফিরে এলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণ দেখতে পাই। এরপর তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, মারধরের কারণে আমার ছেলের মুখমণ্ডল ফুলে গেছে। সে স্বাভাবিকভাবে খাবারও খেতে পারছে না। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ভবনের কেয়ারটেকার আজিজুর রহমান বলেন, হোসেন বিন তৈয়বের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ভবনে বসবাস করে আসছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিশুটিকে দেখে আসছেন এবং নিজের নাতির মতো স্নেহ করেন। তিনি জানান, একদিন হোসেনের মা তাঁকে এসে বলেন যে, মাদ্রাসার শিক্ষক কামাল হুজুর তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে শরীরে আঘাত করেছে। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত শিশুটির বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। পরে তিনি শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসা শেষে শিশুটির প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় সংগ্রহ করতে তিনি ও শিশুটির মা মাদ্রাসায় যান। তবে শিশুটিকে নিয়ে আসার সময়ও অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি কোনো ধরনের সহানুভূতি, অনুশোচনা বা সান্ত্বনা প্রকাশ না করে বরং রাগান্বিত দৃষ্টিতে শিশুটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ কামাল বলেন, ছেলেটি পড়া না পারায় তাকে একটু শাস্তি দিয়েছি। বিষয়টি তার বাবাকেও জানিয়েছি। পরে তার মা এসে তাকে নিয়ে গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনো শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও নৈতিকতার পথপ্রদর্শক, তাই এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ

ফটিকছড়ি উত্তরের গজারিয়া স্কুলের সভাপতি হলেন এড. ইউচুপ আলম মাসুদ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার গজারিয়া জেবুন্নেছা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড মনোনীত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বোর্ডের প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস অথবা নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুমোদিত কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ জেড এম আলমগীর, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে খোরশেদ আলম এবং সদস্য সচিব হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রবিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা কমিটির সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী এ কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

নবনিযুক্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউচুপ আলম মাসুদ বলেন, এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি একটি বড় আমানত। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার মেধা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশের সুযোগ পাবে।




উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক

উত্তর ফটিকছড়িতে কথিত প্রেমিকসহ যুবলীগ নেত্রী আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক যুবলীগ নেত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাবারড্যাম ডলু আড়ালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন—নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির মহিলা সদস্য রাশু বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আটক হন একই ইউনিয়নের কোটবাড়িয়া নাজিরখিল এলাকার বাচা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে হাসেম রাশু বেগমের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয়রা। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুজনকে আটক করে ভুজপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “রাশু বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়রা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।”

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”




ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির অভিষেক সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনব বড়ুয়া, অভিভাবক সদস্য জাহেদ হাসান গণি, শিক্ষক প্রতিনিধি কাজী মুহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, মাস্টার রতন কান্তি চৌধুরী, আব্দুল মতিন, কৃষকদল নেতা নাজমুল হাসান চৌধুরী লিটনসহ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নবনিযুক্ত সভাপতি ও চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপন বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, পরিবেশবান্ধব ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।